রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষা

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৫-০৭-১৬ ০৮:৪২:৩৭


২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এখন অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২২ জুলাই আবু সাঈদ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন পলাতকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী দেওয়া হবে। এর পর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল। আশা করছি, এ মাসের শেষদিকে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

গত রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশ দেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পলাতক ২৪ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং ২২ জুলাই তাদের হাজির করতে হবে। সেই সঙ্গে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামি রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ আপিলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজির করতে হবে।

২৫ ফেব্রুয়ারি আবু সাঈদের মা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। চার মাস তদন্ত শেষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ জুলাই আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। এ সময় তিনি এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।

এতে আরও বলা হয়, আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশে লেথাল উইপন (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন পুলিশের আইজিকে; আইজিপির মাধ্যমে পুলিশের সব কমান্ডিং-অধস্তন যত কমান্ড আছে, তাদের কাছে গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা লেথাল উইপন ব্যবহার করে ছাত্রদের হত্যা করার জন্য। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারসহ ৩০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে তাঁর অধীনরা মাঠ পর্যায়ে থেকে ওই নির্দেশনা রংপুরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা বাস্তবায়ন করেছেন।
এ মামলায় আসামিদের ভূমিকা উল্লেখ করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক এসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা সরাসরি গুলি করেন। এ ছাড়া অন্য আসামিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ হত্যাকাণ্ড, আক্রমণ ও নির্যাতনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও সহায়তা করেন। হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়।

প্রসিকিউশন যাচাই-বাছাই শেষে ১০৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার আসামি বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক এসআই আমির হোসেন, তাজহাট থানার সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ কারাগারে আছেন।

এনজে