জবি শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় ১ জন গ্রেপ্তার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৫-০৮-০৮ ১০:৩৫:৫০


রাজধানীর সদরঘাটে বৃহস্পতিবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। রাত দেড়টার দিকে কোতোয়ালি জোনের এসি ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে কিরণ নামে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিচয় জানা গেছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানানা, এখনো কিছু জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় সদরঘাটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুন্দরবন-১২ লঞ্চের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজের অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা লঞ্চটি ঘেরাও করে ভাঙচুর করেন। এতে ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সদরঘাট টার্মিনালের ১ নম্বর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিল বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে উঠলে লঞ্চকর্মীরা তাকে জোর করে কেবিন ভাড়া নিতে বাধ্য করতে চান।

নাবিল তা প্রত্যাখ্যান করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন স্টাফ মিলে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে তার সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতরা হলেন— ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিল, আইএমএল বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শের আলী, সংগীত বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ব্রজ গোপাল রায়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের জিলন, আইন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের ইমরোজ সিদ্দিক, থিয়েটার বিভাগের ১৯তম ব্যাচের আনিছ, ফিলোসফি বিভাগের ১৮তম ব্যাচের টিঙ্কু, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাকসুদুল হক, কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী রিহাব এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজের মুজাহিদ। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সুমনা হাসপাতালে।

হামলার ঘটনায় সদরঘাটের ইজারাদার ও দক্ষিণাঞ্চল শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়ার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্যমতে, সুমন ভুঁইয়ার ঘনিষ্ঠ কিরনের নেতৃত্বে আজিজুল, রমজান, আনিছ, রফিক, কাদের, রাব্বি ও সাগরসহ কয়েকজন লঞ্চকর্মী হামলায় অংশ নেন। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সুন্দরবন-১২ লঞ্চ ঘেরাও করে ভাঙচুর চালান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘সদরঘাটের ঘটনা সম্পর্কে জানার পর ঘটনাস্থলে আসি। সমস্ত কিছু বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি মানা শর্তে এ ঘটনার সুরাহা হবে।’

তাদের দাবিগুলো হলো— কিরণকে দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করতে হবে; তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা; সিসিটিভি ফুটেজ চেক; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মোবাইল মানিব্যাগ ক্ষতিপূরণ; সাধারণ মানুষের হয়রানি ও কুলিদের অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।

এনজে