ব্যাংক ঋণের ৮৭ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে
আপডেট: ২০২৬-০৩-০৬ ১৫:১৭:৪৪
মোট ঋণ ১৭৭৭৩১৬ কোটি টাকা
- ঢাকা বিভাগে ৬৭.৩৪ শতাংশ
- চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯.৪০ শতাংশ
- খুলনা বিভাগে ৩.৭৪ শতাংশ
- রাজশাহী বিভাগে ৩.৭২ শতাংশ
- রংপুর বিভাগে ২.৩৫ শতাংশ
- ময়মনসিংহ বিভাগে ১.২৮ শতাংশ
- বরিশাল বিভাগে ১.১০ শতাংশ
- সিলেট বিভাগে ১.০৭ শতাংশ
ব্যাংক ঋণের সিংহভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে একা ঢাকা বিভাগেই প্রায় অর্ধেকের বেশি ঋণ থাকে। এর ফলে অন্যান্য বিভাগ তুলনামূলকভাবে ঋণ ও বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা। অর্থনীতিবিদরা এটাকে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি বড় কারণ হিসেবেও মনে করেন।
আর এসব ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঢাকা বিভাগে এবং ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। আর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা।
তবে গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে কমেছে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক ঋণের বড় অংশই ঢাকা-চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় জাল-জালিয়াতির বেশির ভাগই ঘটেছে এসব এলাকায়। আবার বেশির ভাগ ব্যাংক শাখা বা ব্যবসাকেন্দ্র সম্প্রসারণ হচ্ছে এ দুই বিভাগকে কেন্দ্র করে। অন্য বিভাগে ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কীভাবে অন্য বিভাগে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মসূচি চলমান।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট অফিস, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের অধিকাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এসব এলাকায় ব্যাংক ঋণের প্রবাহ বেশি। অন্যদিকে দেশের অনেক জেলায় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের সুযোগ কম থাকায় সেখানে ঋণ বিতরণও তুলনামূলকভাবে কম।
তাদের মতে, আঞ্চলিকভাবে ব্যাংক ঋণের এ ধরনের কেন্দ্রীভবন দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াতে পারে। কারণ যেসব এলাকায় ঋণ ও বিনিয়োগ কম, সেখানে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নও ধীরগতিতে এগোয়। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হয় এবং অন্যান্য অঞ্চল উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে।
তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর সেপ্টেম্বর শেষে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।
তবে গত জুন প্রান্তিকের তুলনায় চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খুলনা বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ডিসেম্বর শেষে রাজশাহী বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
তারপর ডিসেম্বর শেষে বরিশাল বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া ডিসেম্বর শেষে সিলেট বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ ঋণের মাত্র ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অপরদিকে ডিসেম্বর শেষে রংপুর বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
আর ময়মনসিংহ বিভাগে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সব অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যাংক ঋণের বণ্টন আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













