দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক আপডেট: ২০২৬-০৪-১২ ২০:৩৫:৫৩


  • এক মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার
  • এক মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৭০ কোটি ডলার
  • আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ৪০৮ কোটি ডলার

সাম্প্রতিক সময়ে পণ্য আমদানি ও আমদানি খরচ বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে পণ্য রপ্তানি। ফলে প্রতি মাসেই বাড়ছে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্ট-এর (বিওপি) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৯ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে (ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩১৩ কোটি বা ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।

আর এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন বা ৩২০ কোটি ডলার। তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৬ লাখ বা ১৩ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩ লাখ ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ১ লাখ ডলারের। আর অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ৪ লাখ ডলারের। এই সময়ে রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩ লাখ ডলার।

অর্থনীতি গবেষক হেলাল আহমেদ খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের দেশের বাণিজ্য ঘাটতির অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা। এর সাথে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কট। বিশেষত আমেরিকা ইসরাইল ইরান যুদ্ধ এই সঙ্কটকে আরো তীব্র করেছে। এছাড়া নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়নে দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম বা পদক্ষেপ লক্ষ্যনীয় হয়নি। কাজেই সামনের দিনগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।

চলতি হিসাবেও ঘাটতি বেড়েছে

এদিকে, বাণিজ্য ঘাটতির সাথে বেড়েছে দেশের চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতিও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৩১ কোটি ৯ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৭০ কোটি ডলার।

তবে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে চলতি হিসাবে ঘাটতি। গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ২ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে ৪৭ কোটি ডলার।
চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হলো একটি দেশের ব্যালান্স অভ পেমেন্টের (বিওপি) অন্যতম প্রধান উপাদান। পণ্য ও সেবার নিট বাণিজ্য, বিদেশ থেকে আসা আয় ও রেমিট্যান্সের মতো চলতি হস্তান্তর এর অন্তর্ভুক্ত।

আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাংলাদেশের আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্ত ছিল ১৯০ কোটি ৭ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৮ কোটি ৩ লাখ ডলার।
অর্থনীতিবিদরা এই উন্নতির জন্য মূলত ট্রেড ক্রেডিট পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং বিদেশি সহায়তার নিট প্রবাহ বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

ট্রেড ক্রেডিটেও উদ্ধৃত্ত বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে ১০৩ কোটি ১ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে ট্রেড ক্রেডিটে উদ্ধৃত্ত দাড়িয়েছে ২৫৬ কোটি ২ লাখ ডলার।

ট্রেড ক্রেডিট হচ্ছে পণ্য বা পরিষেবা যা এখনই গ্রহণ করা হলেও মূল্য পরে পরিশোধ করা হয়। একে ব্যালান্স অভ পেমেন্টের (বিওপি) স্বল্পমেয়াদি মূলধন প্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এটি সরাসরি পণ্য আমদানির সঙ্গে অর্থায়নের সম্পর্ক স্থাপন করে।

সার্বিক ভারসাম্যে উন্নতি

আলোচ্য সময়ে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে ১২৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। আর অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্ধৃত্ত দাড়িয়েছে ৩৪২ কোটি ৭ লাখ ডলার

এফডিআই

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-‌ ফেব্রুয়ারিতে ১০৬ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের যার পরিমাণ মাত্র ৮৭ কোটি ডলার।

ত‌বে আলোচিত সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ৮ কোটি ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরেরও শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ৮ কোটি ডলার।

এএ