টাকা তোলার চাপে ইসলামী ব্যাংকে দৈনিক নেট ঘাটতি ১২০০ কোটি টাকা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৪ ২১:৫৭:৫৪
ইসলামী ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগরে পর চলতি অস্থরিতার মধ্য দিয়ে টাকা তোলার চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আজ (রোববার) পর্যন্ত চলতি মাসের ব্যাংকটি থেকে লাইন দিয়ে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা। বিশেষ গত দুই কর্মদিবসে টাকা তোলার হার বাড়ায় দৈনিক গড়ে ১১০০-১২০০ কোটি টাকার নেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি প্রতনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন।
আলতাফ হুসাইন জানান, গভর্নরে সঙ্গে সফল বৈঠক অনুষ্ঠিতি হয়েছে। সেখানে গ্রাহকদের টাকার চাহিদাসহ যাবতীয় সেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নানা বিশ্লেষণমূলক তথ্য অবহিত করেন। গত বৃহস্পতিবার চেক ক্লিয়ারিং বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যা রোববার উন্নতি হয়েছে। আাশা করা যায়, গ্রাহক এখন থেকে চাহিদা মত টাকা তুলতে পারবেন।
তিনি জানান, ব্যাংকের প্রতিদিন গড়ে নেট ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। তবে কোনো কোনো দিন তা ৭০০-৯০০ কোটির অঙ্কে ছিল। মূলত নগদ জমা এবং নগদ উত্তোলনের ঘাটতির ব্যবধান বৃদ্ধির কারণে এ নেট ঘাটতি বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংবের নগদ সহায়তারপর আরটিজিএস এবং এনপিএসবি এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন সম্ভভ হচ্ছে। ব্যাংকটির অ্যাপভিত্তিক সেলফিন এ লেনদের জটিলতা দখো দেয়। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ (রোববার) বাংলাদশে ব্যাংক ২৫০০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখতে আরো ১৭০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দিছেনে। সবমিলে যার পরিমান ২৬৭০ কোটি টাকা।
তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ ফান্ড ট্রান্সফারে কোনো সমস্যা নেই। তবে ইন্টারব্যাংক বা অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে থেকেই একটি লিমিট সেট করা ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইন্টারব্যাংক ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট পজিটিভ ধারায় ফিরে আসায় ব্যাংকের টেকনিক্যাল টিম এই লিমিট আপডেট করার কাজ করছে এবং দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।
ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক সামনে কমেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এমডি জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের টাকা পরিশোধের বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং রেমিট্যান্সের গ্রাহকরা যাতে সেবা পান তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করে আলতাফ হুসাইন জানান, ব্যাংকটি বর্তমানে তাদের ব্যবসার উন্নয়ন ও দৈনিক লেনদেন স্বাভাবিক করার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে গ্রাহক সেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি সৃষ্ট সাময়িক সংকট বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় অনেকটা স্বাভাবিকরে পথে এবং তারল্য পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পজিটিভ জোনে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থ কিভাবে এবং কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তা মনিটরিং করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেসরকারী খাতের সর্ববৃহৎ ব্যাংক খ্যাত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ামম্যান হিসাবে খুরশীদ আলমকে নিয়োগের পর আতঙ্কে টাকা উত্তোলনের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে তারল্য সংকটে পরেছে ব্যাংকটি। অনেক শখায় গ্রাহরা চাহিদা মত টাকা তুরতে পাননি এমন খবর পাওয়া গেছে।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













