জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান শেষ, মালামাল জব্দ
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২০ ২১:৩৫:০৮
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের ‘জয়িতা’ নামের আটতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালতের নির্দেশে সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত বাড়িটিতে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে বাড়িতে থাকা মালামাল জব্দসহ তালিকা প্রস্তুত করে।
দুদক জানায়, জলসিঁড়িতে অবস্থিত আটতলা ভবনটি আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। আদেশ অনুযায়ী ভবনের বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাব, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা করা হচ্ছে। ক্রোক করা সম্পদের সঠিক বিবরণ সংরক্ষণের জন্য এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে থাকা বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ সিলগালা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রুপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ অনেকে।
এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করা এবং তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করার অপরাধে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি বাদী হয়ে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তা নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জিয়াউল আহসান নিজ নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। তিনি তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জিয়াউল আহসান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














