দু:সহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বার্ষিকী আজ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২১ ০৯:০৮:১৭


রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে মোট ৬৩ জন জীবিত আছে। এর মধ্যে ৩৭ জন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং অন্য ২৬ জন দেশের অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে ২০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৫ জন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন, ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন এবং লুবানা জেনারেল হাসপাতালে একজন মারা যায়।

বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৫৭ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অন্য রোগীদের শরীরের ৮৫ শতাংশের বেশি দগ্ধ ছিল এবং প্রায় সবারই গুরুতর শ্বাসনালির দগ্ধজনিত ক্ষত ছিল। ১৮ জন দুর্ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে মারা যায়। চিকিৎসা শেষে ৩৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পায়।

অনেক শিশু এখনো নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলে। তাদের শরীরের ক্ষতের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর মানসিক ও সামাজিক সংকট।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মেহেরুননেসা এক বছর ধরে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন। হাসপাতালের দিনগুলো থেকে শুরু করে এখনো তিনি তাদের নিয়মিত খোঁজ রাখেন।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। মাঝেমধ্যে শুধু বন্ধুদের দেখতে আসে। কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার চলে যায়। তাদের মুখে হাসি থাকলেও শরীর আর মন এখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি।

তিনি জানান, সবার শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা আবিদুর রহিম এখনো অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছে। শিক্ষিকা লরিনের মুখ ও দুই হাত এতটাই পুড়ে গেছে যে দুর্ঘটনার পর তাঁর ছোট সন্তান পর্যন্ত তকে চিনতে পারে না। শিক্ষিকা নিশির গলা থেকে বুক পর্যন্ত দগ্ধ হওয়ায় ভবিষ্যতে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন কি না, তা নিয়েও চিকিৎসকদের শঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া রুপি বড়ুয়া, কাফি, সামিয়া, নুসরাত, পায়েল, নিলয়সহ আরো অনেকের শরীরের ক্ষত তাদের স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। নিলয় ও পায়েলের কান অপসারণ করতে হয়েছে। নাবিদ নেয়াজ এখনো গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত জাহান তানজিলা বলেন, গুরুতর আহত শিশুদের প্রায় সবার মধ্যেই ট্রমার প্রভাব ছিল। এক বছর পরও অন্তত ৩০ শতাংশ শিশু পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডার (পিটিএসডি), উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিস-অর্ডারে ভুগছে।

তিনি বলেন, অনেক শিশু স্কুলে যেতে ভয় পায়, মানুষের সঙ্গে মিশতে চায় না। এমনকি প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপিও করতে চায় না। তাদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর হলেও সরকার বা স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ওষুধ ও পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

এনজে