ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২২ ২১:৫৮:৫৫


ওয়ান হেলথকে শুধু নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্তকরণ, প্রশমন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা এবং টেকসই জীবিকা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্লেনারি হলে ‘ওয়ান হেলথ ফর এ বেটার লাইফ : ফ্রম ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টু রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রতিবেশ এবং পরিবেশ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে সৃষ্ট ঝুঁকি দ্রুত অন্য ক্ষেত্রগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্য ও জীবিকা ব্যবস্থা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল স্বাস্থ্য খাতের কোনো কর্মসূচি নয়। এটি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, খাদ্যনিরাপত্তা, সহনশীল জীবিকা ও টেকসই উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পদ্ধতি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামোর ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামো ২০২৫–২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা এবং ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তুতি কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। পরিবর্তনশীল ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি ব্যবস্থাকেও ক্রমাগত উন্নত করতে হবে। এজন্য সমন্বিত নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জৈবনিরাপত্তা, পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগের উদ্ভবের পরিবেশগত, প্রতিবেশগত ও আর্থসামাজিক কারণ সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা প্রয়োজন।

জলবায়ু সহনশীলতাকে স্বাস্থ্য সহনশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে ওয়ান হেলথের অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বর্তমান বিশ্বের জরুরি পরিস্থিতির ঝুঁকি কোনো জাতীয় সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কার্যকর প্রস্তুতির জন্য পুরো সরকারব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়, বহুখাতীয় সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।

এফএওসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিকে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা, টেকসই জীবিকা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশনির্ভর সমাধান, জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং বৈশ্বিক জ্ঞানকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগের ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথ অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে এবং কার্যক্রম থেকে পরিমাপযোগ্য ফলে রূপ দিতে সব অংশীদারকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্যানেল আলোচনায় নাইজেরিয়ার পশুসম্পদমন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, রোমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক মিনিস্টার-কনস্যুলার ডগলাস হোয়েলশার, থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-স্থায়ী সচিব সোফন ইআমসিরিথাওয়ার্ন এবং ইসলামিক সংস্থার পরিচালক মেমদুহ উনাল অংশ নেন।

এ সময় ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. টি. এম. রকিবুল হক, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএইচ