জঞ্জাল থেকে তুলে জোড়া হল আঙুল

প্রকাশ: ২০১৫-১১-০৫ ১০:০২:১৭

imageডাস্টবিন থেকে তুলে কাটা আঙুল রোগীর হাতে জুড়ে দিয়েছিলেন ডাক্তারবাবু। বিরল অস্ত্রোপচারে বিরলতর সাফল্য। নামি-দামি চকচকে হাসপাতাল নয়- ভারতের পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে এই তাক লাগানো ঘটনা যিনি ঘটিয়েছেন, তিনি শল্য চিকিৎসক পবন মণ্ডল। আঙুলের মালিক দরিদ্র ব্যবসায়ী মুক্তারাম দত্ত। আঙুল ফেরত পেয়ে চিকিৎসককে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।

বছর পঁয়তাল্লিশের মুক্তারামবাবু থাকেন পুরুলিয়া শহরের রামবাঁধ পাড়া এলাকায়। গত ২৬ অগস্ট বিকেলে সাইকেলে চেপে স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাচ্ছিলেন। একটি মোটরবাইক তাঁকে ধাক্কা মারে। সেই আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ডান হাতের অনামিকার নখ থেকে কিছুটা অংশ। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সদর হাসপাতালে। ক্ষতস্থান সেলাই করে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে মুক্তারামবাবুর এক বন্ধু কাটা আঙুলটি রাস্তার ধার থেকে কুড়িয়ে পেয়ে নিয়ে যান হাসপাতালে। ততক্ষণে পেরিয়ে গিয়েছে তিন ঘণ্টারও বেশি। মুক্তারামবাবু বলেন, ‘‘আমার যে আঙুল কাটা গিয়েছে, তা বুঝতে পারি অপারেশন থিয়েটারে জ্ঞান ফেরার পরে। এক বন্ধু কাটা আঙুলটি নিয়ে এলে চিকিৎসক ও নার্সরা বলেছিলেন, এখানে জোড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তখন
কাগজে মুড়ে আঙুলটা ফেলে দিয়েছিলাম ডাস্টবিনে।’’

খবরটা শুনে কিছুক্ষণ পরেই মুক্তারামবাবুকে হাসপাতালে ডেকে পাঠান চিকিৎসক পবনবাবু। আঙুলটা দেখতে চান। ডাস্টবিনে খুঁজে আঙুল পাওয়া গেল। পবনবাবুও প্রথমে বলেছিলেন, ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে আঙুল জোড়া দেওয়া যাবে না। তাঁর নিজেরই কথায়, ‘‘বলেছিলাম, বাইরে কোনও বড় হাসপাতালে যান! কিন্তু রোগী জানালেন, ‘তাঁর আর্থিক সঙ্গতি নেই, যা করার আপনিই করুন।’’ পবনবাবু নিজের কাছেই একটা চ্যালেঞ্জ রাখলেন। দু’মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরে জোড়া দেওয়া আঙুল ক্রমশ সুস্থ হচ্ছে। পবনবাবুও খুশি, সে দিন চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন বলে।

ভারতের আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জারি বিভাগের প্রধান রূপনারায়ণ ভট্টাচার্য বললেন, পবনবাবু যে পথে এগিয়েছেন, চিকিৎসার পরিভাষায় তাকেকম্পোজিট গ্রাফটিং বলা হয়। ‘‘খুবই দক্ষতার সঙ্গে কেটে টুকরো হয়ে যাওয়া আঙুলটি জোড়া লাগিয়েছেন পবনবাবু।’’ কলকাতার খিদিরপুর একটি বড় হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জেন অনুপম গোলাসে-এরও বক্তব্য, ‘‘কোনও জেলা হাসপাতালে এই ধরনের সফল অস্ত্রোপচার খুবই ইতিবাচক লক্ষণ।’’

আনন্দবাজার পত্রিকা

Print Print