আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আস্থা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০৯-১৯ ০৯:৪৩:৩০
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। একুশ শতাব্দিতে প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হলো সততা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যা কোম্পানির ব্র্যান্ডিং, খ্যাতি এবং পণ্যের পার্থক্য কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি করে৷ জিআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুনাফার দিক থেকে বিশ্বের ৯৩%বৃহত্তর কোম্পানির তিন-চতুর্থাংশ সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে কাঠামো ব্যবহার করে।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথ উদ্যোগে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে “টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেনেবল রিপোর্ট” শীর্ষক ওয়ার্কশপে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটওয়ারী, মাহা-ব্যবস্থাপক এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মাদ আসাদুর রহমান, জিআরআই সাউথ এশিয়ার সাসটেনেবিলিটি এক্সপার্ট মিস পল্লবী আত্রী, জিআরআই সাউথ এশিয়ার ডিএফএটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিস রুবিনা সেন৷
মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, জিআরআই মান অনুযায়ী ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা প্রদান ও পরিবেশ রক্ষা করে। এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালন ও স্টেকহোল্ডারদের সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের উন্নতি, খ্যাতি বৃদ্ধি ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য ডিএসই ইতোমধ্যে সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং এর উপর নির্দেশিকা চালু করেছে। সমস্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এটি অনুসরণ করার জন্য আহবান করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ব্যাপকভাবে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশের দৃঢ়তার উপর জোর দিয়েছে৷ ডিএসই রেগুলেটরি সংস্থা ও জিআরআই-এর সহযোগিতায় সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং নির্দেশিকার উপর এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এই কর্মশালা থেকে সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাভবান হবে৷ আগামী ১০ মাসের মধ্যে ৩টি ওয়ার্কশপ হবে, আর এটি দ্বিতীয় কর্মশালা।
ইমন আরও বলেন, ১৯৫৪ সালের স্টক এক্সচেঞ্জ আজকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট৷ যদি জিডিপি, ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ এবং গ্রোথের সাথে তুলনা করা হয়। তবে এটা খুবই দুঃখজনক যে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের সে গ্রোথটা নেই। একটা হচ্ছে ইকোনমির সাথে গ্রোথ অন্যটি হলো রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডকে বৃদ্ধি করে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করে অন্যদের আকর্ষণ সৃষ্টি করা৷
সকল মহলের প্রধান চাহিদা কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি রিপোর্ট৷ বিশ্বব্যাপী যেটা গ্রহণযোগ্য৷ বাংলাদেশে কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রিপোর্ট করে। কিন্ত আরও অনেক ভাল কোম্পানি এটি করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়ায় আমাদের পুঁজিবাজার, জিডিপি এবং অর্থনীতি সবই আরও উচ্চ স্তরে যেতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসই ও জিআরআই এর যৌথভাবে আয়োজিত এই কর্মশালা সমাপ্তির পর আগামী দিনগুলোতে আরও বাংলাদেশি কোম্পানি এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি ও প্রকাশ করবে। ডিএসই তাদের জাতিসংঘের এসএসই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত রাখবে।
ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটওয়ারী, বলেন, সটেনেবিলিটি রিপোর্ট এখন মূলধারার ব্যবসায়িক অনুশীলন। জিআরআই এর সাসটেনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডগুলো হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি মান, যা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের উপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে যোগাযোগ করার জন্য একটি সার্বজনীন ভাষা এবং বিশ্বাসযোগ্য একগুচ্ছ প্রকাশনা৷ এছাড়াও জিআরআই নেতিবাচক পরিবেশগত, সামাজিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব হ্রাস করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। যা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু ও লয়ালিটি বৃদ্ধি করে। আর এরফলে এক্সটারনাল স্টেকহোল্ডারগন প্রতিষ্ঠানের সঠিত মূল্য এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সম্পর্কে অবগত হন।
তিনি আরও বলেন,ডিএসই ও জিআরআই যৌথভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসন এর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ও সচেতনতা গড়ে তুলতে নির্দেশনা প্রদানের জন্য কাজ করছে। ডিএসই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং এবং কর্পোরেট স্বচ্ছতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করছে এবং ডিএসই’র তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি বৃহৎ সংখ্যার কোম্পানি সাসটেনেবিলিটির বিষয় রিপোর্ট করছে৷ “টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেনেবল রিপোর্ট”’ বিষয়ে জিআরআই ডিএসই’র কর্মশালার সফল সমাপ্তির পরে আরও বাংলাদেশি কোম্পানি আগামী বছরগুলোতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে।
জিআরআই হল একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা যা ১৯৯৭ সাল থেকে কর্পোরেট সাসটেইন্যাবিলিটি রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে আসছে। জিআরআই ব্যবসা, সরকার এবং অন্যান্য সংগঠনকে জটিল সাসটেইন্যাবিলিটি ইস্যু, যেমন: জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ব্যবসায়ে প্রভাবকে বোঝায় এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ৯০টির বেশি দেশে এর কয়েক হাজার প্রতিনিধি রয়েছে। জিআরআই টেকসই রিপোর্টিং-এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত স্টান্ডার্ডগুলো প্রদান করে, সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের স্টেকহোল্ডারগণ এই বিষয়গুলোর তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














