অর্ধেকের বেশি ব্যাংক চলছে দেশি সফটওয়্যারে

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১৬:২৮:৩৬ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১৬:২৮:৩৬

ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে দেশের সফটওয়্যার খাত। দেশে সফটওয়্যারের আমদানি বাড়লেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশি সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে ব্যাংকিং খাতে। এর আগে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংগুলোতে একচেটিয়া বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার হয়ে এলেও বর্তমানে ৩১টি ব্যাংক আট ধরনের দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ ৫৯টি ব্যাংকের অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক এখন চলছে দেশীয় সফটওয়্যারে।

ব্যাংকিং খাতে দেশি সফটওয়্যারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পুরো ব্যাংকিং খাতই দেশীয় সফটওয়্যারে পরিচালনা হওয়া উচিত বলে মত তাদের। তবে কিছু কিছু ব্যাংক বলছে, দেশীয় সফটওয়্যার এখনো তাদের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তবে দেশের সফটওয়্যার খাতের অগ্রগতির চিত্রে তারাও আশাবাদী, একসময় দেশীয় সফটওয়্যারেই পরিচালিত হবে ব্যাংকিং খাত।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ব্যাংকিং খাতে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ার তথ্য অত্যন্ত ইতিবাচক। ব্যাংকগুলোতে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার অন্যদেরও দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

বেসিস সভাপতি আরও বলেন, এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আর্থিক খাতে বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য পাচারের ঝুঁকি থেকে যায়। তারা কখনো ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দিচ্ছে কি না, কিংবা তথ্য চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে না— সে নিশ্চয়তা নেই।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি ফারহানা এ রহমান  বলেন, ব্যাংকিং খাতে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার বৃদ্ধি শিল্পটির জন্য বড় একটি সুখবর। এটি খুবই ইতিবাচক একটি দিক। আর দেশে ব্যাংক খাত সফটওয়্যারের বড় একটি বাজার। ব্যাংকের মতো আর্থিক খাতে দেশীয় সফটওয়্যারে ব্যবহার বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারের অন্য ক্রেতাদের কাছেও আস্থা বাড়বে। এখন যেসব ব্যাংক বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, খরচ বাঁচাতে একসময় তারাও দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করবে বলে আমরা আশাবাদী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ৫৯টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩১টি ব্যাংক কোর ব্যাংকিংসহ আট ধরনের দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। তবে দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যা জানাতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে  বলেন, ব্যাংকিং খাতে ধীরে ধীরে দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। এর আগে আরও কমসংখ্যক ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার হতো। দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগেই দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) আবুল কাশেম খান বলেন, আমাদের এখনো বিদেশি হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা বিদেশি সফটওয়্যার নির্ভরও। দেশীয় সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও লোকাল সাপোর্ট সবসময় পাওয়া যায় না। তবে দেশের সফটওয়্যার খাত উন্নতি করায় একসময় আমরা পুরোপুরি দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারব বলে প্রত্যাশা করছি।

বেসিস নেতারা জানান , বর্তমানে ইবিএল, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইউসিবিএল, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ বেশিরভাগ ব্যাংক দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক তাদের সফটওয়্যার নিজেরাই তৈরি করেছে। পদ্মা ব্যাংকও তাদের কয়েকটি সফটওয়্যার নিজেরাই তৈরি করেছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এখনো দেশীয় সফটওয়্যারের আওতায় আসেনি। সূত্র-সারাবাংলা

সানবিডি/এনজে