বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্রেডিট কার্ড বাজারে আনল এবি ব্যাংক

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০২-০৬ ১৬:৪৭:০২ || আপডেট: ২০২০-০২-০৬ ১৬:৪৭:০২

১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ছাড় সংবলিত নতুন ধারার ক্রেডিট কার্ড চালু করল এবি ব্যাংক লিমিটেড। ‘এবি হাইটস’ নামের এ ব্যাংকিং সেবাটিকে দেশের ব্যাংকিং খাতের নতুন মাত্রার সংযোজন বলছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ক্রেডিট কার্ড সেবাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবদুর রহমান। তিনি জানান, নতুন ধারার এ ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে গ্রাহককে এবি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় হিসাব খুলতে হবে। সে হিসাবে জমা রাখতে হবে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকার আমানত। জামাকৃত আমানতের বিপরীতে দেড় গুণ ঋণ সুবিধা সংবলিত ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করবে ব্যাংক। অর্থাৎ ১ লাখ টাকা আমানত জমা রেখে দেড় লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবেন গ্রাহক। জমাকৃত আমানতের ওপর পাবেন গ্রাহকরা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা। ১৮ বছরের বেশি বয়সের বাংলাদেশী যেকোনো নাগরিক একক অথবা যৌথ নামে (সর্বোচ্চ দুজন) এ হিসাব খুলতে পারবেন। আবার গ্রাহকরা যখন খুশি তখন ব্যাংকে রাখা আমানতও তুলতে পারবেন।

আবদুর রহমান জানান, জনগণকে ঋণ সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতেই সেবাটি চালু করেছে এবি ব্যাংক। এবি হাইটস গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা পাবেন। বিমানবন্দরে পাবেন সৌজন্যমূলক সেবা। চিকিৎসার জন্য পাবেন বিশেষ ছাড়। শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে ক্রেডিট কার্ডটি। এছাড়া দেশ-বিদেশের দেড় হাজারেরও বেশি মার্চেন্ট আউটলেটে এর গ্রাহকরা আকর্ষণীয় ছাড় পাবেন। ডুয়েল কারেন্সির এ কার্ডটির মাধ্যমে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ও ভিসা প্রক্রিয়া কেন্দ্রে বিশেষ ছাড় পাবেন।

ক্রেডিট কার্ডটির উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল। তিনি বলেন, ব্যাংকার ও ব্যাংকের সদিচ্ছা থাকলে কোনো ব্যক্তির পক্ষেই ব্যাংকের টাকা নিয়ে পালানোর সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এবি ব্যাংক তা প্রমাণ করেছে। সাবেক মন্ত্রীসহ অনেক বড় ঋণখেলাপিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছি। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আমরা সহযোগী হিসেবে পেয়েছি। আমরা ঋণখেলাপিদের এ বার্তাই দিতে চাই, ব্যাংক থেকে টাকা নিলে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।

তারিক আফজাল বলেন, দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে আমরা হারানো গৌরব ফিরে পেতে চাই। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালে এবি ব্যাংক সব ক্ষেত্রেই উন্নতি করেছে। এত অল্প সময়ে দেশের অন্য কোনো ব্যাংক খারাপ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ ৩৩ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে খেলাপি ঋণ এক অংকে নেমে আসবে। তবে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টের বিশেষ সুবিধা দিয়ে আমরা মাত্র একটি ঋণ পুনঃতফসিল করেছি। আমি খেলাপিদের বাড়তি সুবিধা দেয়ার পক্ষপাতি নই।

অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের ডিএমডি শামসিয়া আই মুতাসিম ও মাহমুদুল আলম, রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ মিজানুর রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস