হাতের তালুতে অনিশ্চিত রাশিরেখা

:: মিজান মালিক || প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৭ ১৪:৩৪:৫৩ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৭ ১৪:৩৪:৫৩

 “উপকারিতা না থাকলে বিশ্বের কোনো দেশ লগডাউন দিত না। লডডাউন দিলে কর্মজীবী, শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়, এই হিসাবটা সরকার আগেই করে রাখে এবং সেইসব শ্রেণীর মানুষকে আশ্বস্ত করে। এরফলে প্লানটা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

মানুষকে মহা সংক্রমন থেকে রক্ষার চেষ্টা হিসেবে এই ধরনের উদ্যোগ ভালো কাজ দেয়। আমাদের দেশে এই বছরই প্রথম লগডাউন দেয়া হলো এমনটি নয়। গেল বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে লগডাউন দেয়ার আগে সব দিক ভাবা হলে মানুষ এভাবে প্রতিবাদমুখর হয়ে রাস্তায় দাড়াতো না।

শ্রমজীবী মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর- এই সারির মানুষ এই দুর্যোগকালে কী খাবে, কিভাবে তাদের সংসার চলবে তার নিশ্চয়তা না থাকায় পড়েছেন উৎকণ্ঠায়। আর উৎকণ্ঠা থেকে হতাশা। রাস্তায় নেমে আসা। দূর পাল্লার গাড়ি বন্ধ তো সিটি সার্ভিস চালু, আবার সিটি সার্ভিস বন্ধ‌ তো পোশাক কারখানা খোলা, এই যে, বিপরীতমুখীতা, এইসবের ফলে মানুষ উদ্ভ্রান্ত।

কী করবে। কোথায় যাবে। “ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাব” কবির এই চরনটি যখন লেখা হয়, দেশের মানুষ কেমন ছিল জানি না। তবে মানুষ এখন অনেকগুলো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করছে। মহামারী এসে মানুষের কষ্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের হাতে এখন অনিশ্চিত রাশিরেখা।

কবে “এই দুর্ভাগ্যরশি করোন” থেকে মানুষ মুক্তি পাবে তা কেউ বলতে পারছে না। এমন এক বাস্তবতায়, দেশের মানুষ স্বস্তির খবর চায়।করোনায় গতকাল মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জন। আক্রান্ত সাত হাজারের অনেক বেশি। লাফিয়ে লাফিয়ে উপরে উঠছে মৃত্যুর সংখ্যা। বাড়ছে আক্রান্তের হার।

লগডাউন দিয়ে মানুষের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায়‌ও নেই। কিন্তু, এর সাথে মানুষকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থেকে সাময়িক হলেও রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নেই,এটি মানুষকে জানাতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, কী প্রক্রিয়ায় মানুষের পেটের চাহিদা পূরণে কাজ করবেন? গেল বছর যাদের প্রনোদনা দেয়া হয়েছে, তাদের বলা দরকার, এবার তোমরা মানুষের পাশে দাঁড়াও। যারা কায়দা করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে, তাদের বলতে হবে “লগডাউন কোষাগার”-এ অর্থ দাও। এ ছাড়া দেশি বিদেশি দানের বিষয়টি তো আছেই।

সাতদিন, দশদিন বা পনেরোদিন যদি লগডাউন থাকে কেউ না খেয়ে মরবে না এইটুকু আশ্বাস পেলে মানুষ খুশি। এরপরের ধাপ হলো, কিভাবে তাদের হাতে দানের বা অনুদানের বা ত্রাণ সুবিধা পৌঁছাবেন! এটা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক, বিভিন্ন পেশার লোকজনসহ জাতীয় কমিটির অধীনে সাব কমিটি করা যেতে পারে। মানুষের ভেতরে যে আরেকটা মানুষের বাস, তার পরিচয় আমরা জানি না।

সেই মানুষটি প্রবোদ মানতে চায় না।‌ছুয়ে দেখতে চায় স্বপ্ন। যে একটি জব করে, মাস শেষে বেতন পায় সেও এই কোভিডকালে নিজেকে নিয়ে অস্থিরতায় আছে। তার কাছে পরের দিনটি অনিশ্চিত হয়ে হাজির হোক চান না। কিন্তু, একি হচ্ছে। এই জায়গায় তাদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধানের মালিক পক্ষকে বলতে হবে, সুবিধাভোগী কোনো শিল্পপতি ব্যবসায়ী যদি এই সংকটের সময় কারো চাকরি বা বেতন নিয়ে টালবাহানা করেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে সরকার।

মোট কথা হলো, সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারকে এখন বেশি করে কাজ করতে হবে। মানুষ অন্তত কিছুদিন যেনো ঘর থেকে বের না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে পারলে অতিমারি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। কারণ কে ভাইরাসটি বহনকারি সেটা জানার সুযোগ নেই। যতক্ষণ না পরীক্ষা হয়। আর পরীক্ষার ফলাফল কি আসছে একদিনের একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরছি।

গেল শনিবার ডিআরইউ বুথে করোনা টেস্টের জন্য ৫৭ জন নমুনা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন পজিটিভ। অর্থাৎ যারা বাইরে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে আমার ধারনা এখন অন্তত ৬০ ভাগ মানুষ এই ভাইরাসের মধ্যে ঘোরাফেরা করেন। ভাইরাসটি বহন করছেন। ফলে লগডাউনের বিরোধিতা না করে এর আওতায় পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন,তাদের বিষয়টির প্রতি সরকার সুনজর দিলে মানুষ বাঁচে। দেশ রক্ষা পায়।

আর এখন আক্রান্ত হলে হসপিটালে যাওয়ার নাম নেয়াও যেনো বারণ। সিট নেই। অক্সিজেন সিলিন্ডার সংকট, আইসিও সাপোর্ট নেই.. নিজের সুরক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। দুঃসময় একদিন কেটে যাবে। একটি শুভ্র পৃথিবীর অপেক্ষায় সবাই প্রহর গুনছে।”

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •