বীমা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রসঙ্গে

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২১-০৬-০৮ ১৮:৩৪:১১ || আপডেট: ২০২১-০৬-০৮ ১৮:৩৪:১১

এ কে এম এহসানুল হক, এফসিআইআই: বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান যাদের সাথে বীমা খাতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে যেমন, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, অডিট ফার্ম, সার্ভে ফার্ম ইত্যাদির পেশাগত দায়িত্বের দিক থেকে সততা এবং স্বচ্ছতার সাথে তাদের দায়িত্ব প্রতিপালন করতে হবে। এই সমস্ত পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের তাদের পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা এবং অসাধু পস্থা অবলম্বন আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির পেশাগত দায়িত্ব হচ্ছে বীমা কোম্পানির আর্থিক এবং সার্বিক কার্যকলাপ সুক্ষ্মভাবে পরীক্ষা এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে বীমা কোম্পানির সঠিক মূল্যায়ন বা ক্রেডিট রেটিং অনুমোদন বা নিশ্চিত করা।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পরিবেশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বীমা খাতের এক শীর্ষ স্থানীয় জীবন বীমা কোম্পানি নানা প্রকার অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ততা থাকা সত্বেও স্থানীয় এক ক্রেডিট এজেন্সি এই বীমা কোম্পানিকে ‘AAA’ ক্রেডিট রেটিং প্রদান করেছে।

প্রথম সারির বহুল আলোচিত এই জীবন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে বীমা গ্রাহকের তহবিল তছরুপ, সময় মত বীমা গ্রাহকের দাবি পরিশোধ না করা, সরকারী কর ফাঁকি দেয়ার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে।

এসত্ত্বেও এই বীমা কোম্পানিকে কিভাবে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ‘AAA’ ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। এই ধরনের সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন এক ধরনের গর্হিত বা অন্যায় কাজ, যা পেশাগত দায়িত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির এই ধরনের অনৈতিক কাজ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তাদের বিপদগামী করার সামিল।

এই সমন্ত তথাকথিত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির অবৈধ এবং অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অডিট ফার্ম

বিভিন্ন অডিট ফার্ম বিশেষ করে চাটার্ড একাউন্টেন্সি ফার্মের পেশাদারী, দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে জনমনে সংশয় এবং প্রশ্ন রয়েছে।

এই সমস্ত অডিট ফার্মের অনেকেই বীমা কোম্পানির সাথে যোগসাজসে মনগড়া বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থাকে যা মূলত বীমা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এই ব্যাপারে বেশ কিছু অডিট ফার্মের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এই সমস্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে নানা প্রকার ভুল বা ভুঁয়া তথ্য পরিবেশন করা হয়, যা বীমা কোম্পানির প্রকৃত কার্যকলাপের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম।

এই ধরনের অসাধু এবং অনৈতিক কাজ অডিট ফার্মের জন্য দুর্নাম বয়ে আনতে পারে এবং সেই সাথে ব্যবসা ক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন এবং ভাবমূর্তী নষ্ট করতে পারে।

পেশাদারী অডিটফার্মের নিকট এই ধরনের গর্হিত কাজ মোটেই প্রত্যাশিত বা বাঞ্চনীয় নয়।

সার্ভে ফার্ম

এ কথা বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না যে অধিকাংশ সার্ভে ফার্মে দক্ষ এবং পেশাগত জনবলের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে।

সার্ভে ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিগণের অনেকেরই বীমা সমন্ধে জ্ঞানের অভাব রয়েছে।

বীমা সার্ভে এক প্রকার বিশেষায়িত এবং পেশাদারী কাজ। দুঃখজনক হলেও এ কথা সত্যি যে, অধিকাংশ সার্ভে ফার্মের কাজের মান (পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠিতে) আন্তর্জাতিক মান তো দূরের কথা সার্কভুক্ত দেশের তুলনায় নিম্ন মানের।

সার্ভে ফার্মের অবশ্যক করণীয় কাজ হচ্ছে বীমা কোম্পানির বা বীমা গ্রহীতার দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সুষ্ঠুভাবে ক্ষতির অনুসন্ধান করা এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কোন প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়া সার্ভে প্রতিবেদন তৈরী করা।

বীমা কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ’র সার্ভে ফার্ম নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে সার্ভে ফার্মের পেশাগত দক্ষতা, সার্ভেয়ারের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিশেষভাবে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।

উপরে বর্ণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সততা এবং দক্ষতার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ছাড়া বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন বা অগ্রগতি সম্ভব নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •