রোহিঙ্গা সংকট: ড. ইউনূসের অঙ্গীকার, ড. খলিলুর রহমানের কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার জাতীয় হিসাব

সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৬-০২-০৫ ১৩:০৮:০৩


প্রকৌশলী মোহাম্মদ লোকমান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে নাফ নদীর তীরে আজ যে মানবিক সংকটের স্তূপ জমেছে, তা কেবল ১২ লাখ মানুষের আশ্রয়স্থলের গল্প নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর চেপে বসা এক অসহনীয় পাহাড়। ২০১৭ সালে যখন নাফ নদীর ওপার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা আর আর্তচিৎকার ভেসে আসছিল, তখন বাংলাদেশ মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সেই মহানুভবতা এখন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন দেশের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। তাঁর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এবং মানবিক ভাবমূর্তি এই সংকট সমাধানে তুরুপের তাস হবে বলে মনে করা হয়েছিল। ড. ইউনূস স্বয়ং ঘোষণা করেছিলেন যে, রোহিঙ্গারা এবারের ঈদ তাদের নিজ বাসভূমি রাখাইনে পালন করবে। এই ঘোষণাটি নিছক একটি আবেগপ্রবণ মন্তব্য ছিল না; এটি ছিল একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। কিন্তু সরকারের মেয়াদ যখন শেষ ৯ দিনে এসে ঠেকেছে, তখন সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খতিয়ান মেলালে এক হতাশাজনক বাস্তবতাই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর ও বৈশ্বিক ব্যর্থতার প্রেক্ষাপট:

রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাঁর সেই সফরগুলো ছিল বিশ্ববাসীর কাছে একটি সংকেত যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি কেবল বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক দায়। গুতেরেসের সফরের পর এবং ড. ইউনূসের মতো বিশ্বনন্দিত নেতার আহ্বানের পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আচরণে আমূল পরিবর্তন আসেনি। বরং আমরা দেখছি, রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন বিশ্বের ‘বিস্মৃত সংকট’(Forgotten Crisis)-এর তালিকায় নাম লেখাচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ কিংবা গাজা সংকটের ডামাডোলে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি ‘ত্রাণনির্ভর রুটিন’ কাজ হিসেবে গণ্য করছেন। গুতেরেসের সফরের পর যে রাজনৈতিক চাপ মিয়ানমার জান্তার ওপর আসার কথা ছিল, তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান: হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের সাফল্য ও ব্যর্থতার খতিয়ান ।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধান উপদেষ্টার ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নিযুক্তি ছিল এই সরকারের একটি বড় চাল। একজন দক্ষ সাবেক কূটনীতিক হিসেবে তাঁর ওপর দায়িত্ব ছিল স্থবির হয়ে পড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সচল করা এবং রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন কোনো ‘অ্যাক্টর’বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা।

ড. খলিলুর রহমান তাঁর মেয়াদে ‘মানবিক করিডোর’ধারণার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল রাখাইনের অভ্যন্তরে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে নতুন করে কেউ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ না করে।

* সাফল্যের দাবি: তাঁর আমলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে এবং রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রক ‘আরাকান আর্মি’র সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এটি কৌশলগতভাবে একটি বড় অর্জন হতে পারত যদি তা বাস্তবায়নের রূপ পেত।

* ব্যর্থতার দায়: কিন্তু পরিসংখ্যান কথা বলে। ড. খলিলুর রহমানের এই সুদীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টিসহ ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। তাঁর প্রস্তাবিত ‘মানবিক করিডোর’আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এই করিডোর দিয়ে ত্রাণ রাখাইনে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর বিনিময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কী লাভ হয়েছে, তা অস্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উপাত্ত বলছে, করিডোর দিয়ে ত্রাণ গেলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার বা ফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। উল্টো, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যখন দেখে যে ওপারেই ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে, তখন তারা বাংলাদেশ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের চাপ কমিয়ে দেওয়ার অজুহাত পায়। এটি প্রকারান্তরে মিয়ানমার জান্তাকে একটি ‘নিরাপদ দায়মুক্তি’র সুযোগ করে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার নিম্নমুখী গ্রাফ: একটি অর্থনৈতিক অশনিসংকেত

রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে ভীতিকর দিক হলো আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্রমহ্রাসমান হার। আন্তর্জাতিক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (JRP) অনুযায়ী গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্ববিবেক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

* ২০১৮-১৯ অর্থবছর: চাহিদার প্রায় ৭২-৭৫ শতাংশ অর্থ পাওয়া গিয়েছিল।

* ২০২৩-২৪ অর্থবছর: এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

* ২০২৪-২৫ বর্তমান চিত্র: সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ফান্ডের মাত্র ৪২-৪৫ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে।

এই বিশাল আর্থিক ঘাটতির ফলে ডাব্লিউএফপি (WFP) রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত মাথাপিছু রেশনের পরিমাণ ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ৮-৯ ডলারে নামিয়ে এনেছে। এই ক্ষুধার্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে এখন বাংলাদেশ সরকারকে নিজস্ব রাজস্ব বাজেট থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি দেখতে পাই, এই বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন, তার চাপ পড়ছে আমাদের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর।

ক্যাম্পের বাস্তব চিত্র: টেকনাফের বারুদ ও নিরাপত্তার ছাই

মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, টেকনাফ ও উখিয়ার সংকীর্ণ ভূখণ্ডে ১২ লাখ মানুষের এই বিশাল ঘনত্ব একটি ‘টাইম বোমা’র মতো। ক্যাম্পগুলো আজ আর কেবল আশ্রয়কেন্দ্র নেই; এগুলো এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় অপরাধের প্রজনন কেন্দ্র।

ক্যাম্পের ভেতর আরসা (ARSA) বা আরএসও (RSO)-র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর রাজত্ব রাতের বেলাকে বিভীষিকাময় করে তোলে। প্রতিদিন মাদক ও অস্ত্রের ঝনঝনানি স্থানীয় বাঙালিদের জীবন বিপন্ন করছে। মানবিক করিডোর দিয়ে ত্রাণ রাখাইনে পৌঁছালেও, ওপার থেকে মাদক আসা কি বন্ধ হয়েছে? বরং ইয়াবা ও আইসের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ক্যাম্পগুলো ব্যবহৃত হওয়ায় দেশের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে। নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের দপ্তর থেকে এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ‘মাস্টার প্ল্যান’ আমরা দেখতে পাইনি।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী পুনর্বাসন: বিশ্ব কী শিখেছে?

শরণার্থী প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসনের আন্তর্জাতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা তিনটি প্রধান মডেল দেখতে পাই:

১. ভলান্টিয়ারি রিপ্যাট্রিয়েশন (স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন): যা আফগান শরণার্থীদের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ইরানে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা বারবার ফিরে এসেছে।

২. থার্ড কান্ট্রি রিসেটেলমেন্ট (তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন): এটি ভিয়েতনামি ‘বোট পিপল’ বা সিরিয়ার শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ইউরোপ-আমেরিকা গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর। ড. খলিলুর রহমান কি পেরেছেন পশ্চিমা দেশগুলোকে রাজি করাতে যে, তারা অন্তত কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে নিয়ে যাক?

৩. আঞ্চলিক সমঝোতা: রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে যা কাজ করেছিল। কিন্তু মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একগুঁয়েমি এবং চীন-ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখানে একা হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ বলে, কেবল ‘মানবিক করিডোর’ দিয়ে ত্রাণ পাঠালে শরণার্থী সংকট মেটে না; বরং এতে করে শরণার্থীরা আরও স্থায়ীভাবে গেড়ে বসার সুযোগ পায়। প্রয়োজন রাজনৈতিক গ্যারান্টি, যা বর্তমান কূটনীতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে

প্রকৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের চ্যালেঞ্জ: একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি এই সংকটের কারিগরি দিকগুলো উপেক্ষা করতে পারি না।

* পরিবেশ ধ্বংস: ১০ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় হওয়ার ফলে উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে।

* জ্বালানি ও বিদ্যুৎ: ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ এবং রান্নার জ্বালানি (এলপিজি বা লাকড়ি) সরবরাহ করা হচ্ছে, তার একটা বড় অংশ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে।

* ভূ-গর্ভস্থ পানি: ১২ লাখ মানুষের দৈনিক পানির চাহিদা মেটাতে গিয়ে কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এর ফলে পর্যটন শহর কক্সবাজার ভবিষ্যতে তীব্র সুপেয় পানির সংকটে পড়বে।

৫ দফার দাবি: ড. ইউনূস ও আগামী সরকারের জন্য

সরকারের শেষ ৯ দিনে দাঁড়িয়ে বা আগামীতে যে-ই আসুক, আমাদের এই ৫টি পদক্ষেপ নিতেই হবে:

১. জাতীয় শ্বেতপত্র: ড. খলিলুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ড ও ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। কেন ঈদের ঘোষণা বাস্তবায়ন হলো না, তার জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

২. আরাকান আর্মির সাথে সরাসরি সংলাপ: মিয়ানমার জান্তার ভরসায় না থেকে রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রকদের সাথে সরাসরি টেবিল টক করতে হবে।

৩. ফান্ডিং ক্রাইসিস মোকাবিলা: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বলতে হবে—ফান্ড না দিলে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হবে (International Burden Sharing)।

৪. থার্ড কান্ট্রি রিসেটেলমেন্ট: আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে অন্তত ২-৩ লাখ রোহিঙ্গা নেওয়ার জন্য কঠোর কূটনৈতিক চাপ দিতে হবে।

৫. ক্যাম্পে জিরো টলারেন্স: ক্যাম্পের ভেতর অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে বিশেষ বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

উপসংহার: ঈদ কি কেবলই দীর্ঘশ্বাস?

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত কূটনীতি এবং ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কেন আমাদের একটি সফল প্রত্যাবাসন উপহার দিতে পারল না, তা আজ জাতির জিজ্ঞাসা। ঈদ এসেছে এবং চলে গেছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে ফেরার সেই স্বপ্ন আজও নাফ নদীর কুয়াশায় ঢাকা।

রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়; এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আবেগ দিয়ে নয়, বরং কঠোর বাস্তবতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার নিরিখে এই সংকটের সমাধান করতে হবে। সময় ফুরিয়ে আসছে, সরকারের শেষ ৯ দিনে আমরা অন্তত এইটুকু আশা করি যে, তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই ও তথ্যনির্ভর ‘রোডম্যাপ’ রেখে যাবেন।

ঈদের খুশি কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্যও আসুক—এমন একটি দিন যখন আমাদের সীমান্ত হবে নিরাপদ আর ভূমি হবে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত।

লেখক:

প্রকৌশলী মোহাম্মদ লোকমান

সদস্য, জাতীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।

কাউন্সিল মেম্বার, ইনষ্টিটিউশন অব ইন্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইবি)।

এনজে