ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্সের অ্যাম্বাসেডর
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ১৪:১২:৫৮
আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডাচ এক্সপোর্টার্সের (ইউনিডেক্স) অ্যাম্বাসেডর ও অ্যাডভাইজার ফোরকান হায়দার চৌধুরী।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বেলজিয়ান ব্যবসায়ী জানান, ইউরোপের খাদ্যপণ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই বাজারের আর্থিক মূল্য বছরে শত কোটি টাকারও বেশি। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের মান, সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ফোরকান হায়দার চৌধুরী জানান, ১৯৮৯ সালে রোল্যান্ড ইয়ানসেনের হাত ধরে একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে ইউনিডেক্সের যাত্রা শুরু হয়। শোবার ঘরে একটি ফ্যাক্স মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এথনিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এথনিক বাজারের পাশাপাশি বড় সুপারমার্কেট ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে মূলধারার বাজারেও আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে।
তিনি জানান, ইউনিডেক্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ড্রাই ফুড, পানীয় ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। হেলসিংকি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সরবরাহ নেটওয়ার্কে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে পাম অয়েল, পাম ক্রিম, কাসাভা ও বিভিন্ন ধরনের ময়দা, নরওয়ে থেকে সল্টেড ফিশ এবং চীন থেকে তেলাপিয়া মাছ আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে প্রসারের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ফোরকান হায়দার চৌধুরী বলেন, তাঁর উদ্যোগে প্রাণ, বিডি ফুড, ইফাদ, ড্যানিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউনিডেক্সের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন মাছ, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের বাজার এখন শুধু এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপে বসবাসরত আরব, আফ্রিকান ও ইউরোপীয় ভোক্তাদের মধ্যেও এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে তিনি নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দুবাইয়ের গালফ ফুড, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল ও থাইল্যান্ডের থাইফেক্সে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইউনিডেক্স ইউরোপভিত্তিক এশিয়ান ফুড গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে বৃহত্তর একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ গঠন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা ও ইউরোপজুড়ে বাজার সম্প্রসারণের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে বলে জানান ফোরকান হায়দার চৌধুরী। তাঁর মতে, এই সম্প্রসারণের ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশি খাদ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং ইউরোপীয় বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলনও তিনি দেখতে পেয়েছেন বলে জানান।
ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ফোরকান হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুধু চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’
তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য ইউরোপের বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














