জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশ, বড় পতন শিল্প ও সেবাখাতে

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২০ ২১:২৬:৪৩


  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ৪.৫৩% → ২.২২%
  • শিল্প খাত: ৩.৩৩% → -০.২৮%
  • কৃষি খাত: ৪.৬১% → ১.৭৪%
  • সেবা খাত: ৭.৩২% → ৩.৫২%
  • প্রান্তিকভিত্তিক প্রবৃদ্ধি: ৪.৯৬% → ৩.০৩% → ২.২২%

দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ দশমিক ২২ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ সময়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিল্প খাতে—প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশে। পাশাপাশি কৃষি ও সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য পতনে সামগ্রিক অর্থনীতিতে মন্থরতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির এই তথ্য তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রান্তিকভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৯৬ শতাংশ ও ৩.০৩ শতাংশ। এর বিপরীতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩.৯১ শতাংশ ও ৩.৫৩ শতাংশ।

চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৯১ বিলিয়ন টাকা। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই প্রান্তিকে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ছিল ১৪,১৯২ বিলিয়ন টাকা।

কৃষি খাত

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৬১ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২.১১ ও ৩.৬৮ শতাংশ; যেখানে আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল মাইনাস ০.১২ ও ১.৯০ শতাংশ।

শিল্প খাত

২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে মাইনাস ০.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.৩৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬.৮২ ও ১.২৭ শতাংশ; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪.৮০ ও ৫.৭৮ শতাংশ।

সেবা খাত

সেবাখাতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৫২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭.৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৫১ ও ৪.৪৫ শতাংশ হারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৪৯ ও ৫.৮৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসা অর্থনীতির ওপর বড় চাপের ইঙ্গিত। বিশেষ করে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহে ধীরগতি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা—সব মিলিয়ে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে শুধু চাহিদা বাড়ানোর নীতি যথেষ্ট নয়; আর্থিক খাত, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উৎপাদনশীলতার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন না বাড়লে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। বিশেষ করে শিল্প খাতের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, অর্থনীতির উৎপাদনভিত্তি এখনও যথেষ্ট চাপে রয়েছে। তাই সাময়িক প্রণোদনার বদলে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বেসরকারি বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।

এএ