ইবিটি কার্যক্রমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিডব্লিউসিসিআই
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৮-৩১ ১৪:৪২:০৮
নারীর দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)। এ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫৩৬ জন নারী দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
বিডব্লিউসিসিআই জানিয়েছে, এ সময় পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৯টি ব্যাচে এসব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ অর্জন শতভাগ।
ইবিটি কার্যক্রম অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ডুয়াল-মোড ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এডিটিপি), টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্কিলস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (টিএসটিপি) এবং স্পেশালাইজড আপস্কিলিং ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এসইউটিপি)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাইকেলে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের পর দক্ষতা যাচাই
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত দক্ষতা যাচাইয়ে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৮৮ জন কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্টে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৯২১ জনকে কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অ্যাসেসমেন্টে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে কম্পিটেন্সি অর্জনের হার প্রায় ৬৬ শতাংশ।
তবে বিভিন্ন সাইকেলের প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ফলে এই হারকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ইবিটি কার্যক্রমে এনরোলমেন্ট, ট্রেনিং, অ্যাসেসমেন্ট, কম্পিটেন্সি ও এমপ্লয়মেন্ট—এই ধারাবাহিকতায় অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে প্রায় ১২ হাজার
প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৮৪৮ জনের কর্মসংস্থান অথবা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড হয়েছে। কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়িত প্রশিক্ষণার্থীদের তুলনায় এ হার প্রায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সাইকেলের প্রশিক্ষণার্থীদের একটি অংশ এখনো অ্যাসেসমেন্ট ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান ট্র্যাকিংয়ের মধ্যে রয়েছেন। ফলে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের বর্তমান সংখ্যাটিও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সময়ে তথ্য আরও হালনাগাদ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বলতে শুধু চাকরিকে বোঝানো হচ্ছে না। আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, বাড়িভিত্তিক ব্যবসা এবং বিভিন্ন আয়মূলক সেবাকেও এর আওতায় ধরা হচ্ছে।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ
বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি-ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে এডিটিপির আওতায় ১ হাজার ৫৪৫টি ব্যাচে ৩৭ হাজার ৮০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। টিএসটিপির আওতায় ২৫৮টি ব্যাচে ৬ হাজার ১৯২ জন এবং এসইউটিপির আওতায় ১৩৬টি ব্যাচে ৩ হাজার ২৬৪ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও কর্মক্ষেত্রসংযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
অন্তর্ভুক্ত প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী
বিডব্লিউসিসিআইয়ের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের মধ্যে ১৪ জন প্রতিবন্ধী এবং ২৬৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী রয়েছেন। এ্যাসেট প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন ৮ জন প্রতিবন্ধী ও ১৬১ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
তাদের মধ্যে ১৩ জন প্রতিবন্ধী এবং ৯৪ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীকে কম্পিটেন্ট হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে ৮ জন প্রতিবন্ধী ও ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীর।
ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের জন্য নতুন দক্ষতা
এ্যাসেট প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদে এনএসডিএ কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারীদের জন্য বিভিন্ন ‘ফিউচার অব ওয়ার্ক’ অকুপেশন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, হ্যান্ড স্টিচিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কেয়ারগিভিং, বয়স্কদের কেয়ারগিভিং, ফ্যাশন ডিজাইন প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, মাইক্রোফাইন্যান্স অপারেশনস, ফুড প্রোডাকশন অ্যান্ড বেভারেজ এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট।
এনএসডিএ সিএস-সমন্বিত তালিকায় টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং লেভেল-৩ ও লেভেল-৪ এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট লেভেল-৪-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিডব্লিউসিসিআইয়ের বক্তব্য
বিডব্লিউসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, “নারীদের জন্য দক্ষতা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ, স্বল্প সুদে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করতে পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও উদ্যোক্তারা অবদান রাখতে পারবেন। এ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামীতে দেশের বাইরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পথ আরও প্রসারিত হবে বলে আমরা মনে করছি।”
এ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, ‘এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; নারীরা যাতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান কিংবা নিজস্ব ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন, সেটিই মূল লক্ষ্য।’
বর্তমানে বিডব্লিউসিআইয়ের অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দ্রুত অ্যাসেসমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা, কম্পিটেন্সির হার বাড়ানো, কম্পিটেন্ট নারীদের চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং নারী উদ্যোক্তাদের বাজার ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













