ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-৩০ ১৫:৩৯:২৯


দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি (Traceability) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা গেলে মূল্যশৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাজারব্যবস্থার দুর্বলতাও শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির পেছনে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি বড় ভূমিকা রাখছে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানো, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা, বাজারের অনানুষ্ঠানিক ব্যয় হ্রাস এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-১৯ মহামারির পর অতিরিক্ত তারল্য, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। তবে অনেক দেশ তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বিশ্বে গড়ে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে ধরা হলেও বাংলাদেশে এ হার প্রায় ১৬ শতাংশ। এই ব্যয় কমাতে পারলে খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বাজারে তথ্যের অসমতা বা মার্কেট অ্যাসিমেট্রির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। টানা কয়েক বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও কৃষক একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন, যা প্রমাণ করে কৃষকের কাছে বাজারসংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীল কৃষিতে বিনিয়োগের সক্ষমতা তাদের কম। এজন্য কৃষিকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে কৃষি খাতকে ভর্তুকি, সার, বীজ ও সেচ সুবিধার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হলেও এখন সময় এসেছে কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের। দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজস্ব বাস্তবতায় উপযোগী কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি প্রকৃতি ও নানা বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল একটি খাত। তাই জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। উৎপাদনশীলতা বাড়লে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি ভোক্তার কাছেও সহনীয় দামে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা বক্তব্য দেন।

বিএইচ