২৫০ জনের জায়গায় ৮৬৭ রোগী, এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি : বিমানমন্ত্রী
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৯-০৫ ২১:০৮:৩৫
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ এক্সপেরিয়েন্স যদি হয়ে থাকে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালটা দেখে হলো। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে যেখানে ২৫০ জন রোগী থাকার কথা, সেখানে আজ ৮৬৭ জন রোগী আছেন। রোগীদের যে অবস্থা, তা দেখে আমি খুবই বিস্মিত এবং আমার জীবনে আর কখনো এরকম চিত্র চোখে পড়ে নাই।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এরকম হাসপাতাল বাংলাদেশের কোথাও আছে কি না, আমার জানা নেই। থাকার কথাও না। এই হাসপাতালের ভবনকে ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও এখানে রোগী আছে।
৫০০ শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামালপুরে একটি মেডিকেল কলেজ হয়েছে এবং সেখানে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কথা ছিল। ওই হাসপাতালের টেন্ডারও হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও ঠিকাদারের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কত অমানবিক, কত নিকৃষ্ট মানুষ হলে এ ধরনের কাজ করতে পারে, এটা আমার জানা নেই। আমি খুবই আশ্চর্য। এরকম হাসপাতাল আমি জীবনেও ভিজিট করিনি।
হাসপাতালের কর্মকর্তাদের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখানে যারা কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের অনেক গাফিলতি আছে। তারা বিগত সরকারের আমলের গাফিলতি এখনো টানছেন, সেটা ঠিক নয়। আমি মনে করি যে, এই হাসপাতালটা ৫০০ বেডের যেটা অনুমোদন হয়ে আছে, সেটাকে বিল্ডিং করতে দেওয়া হয় নাই সেটা করা উচিত।
বিমান মন্ত্রী বলেন, আজকে ভিজিট করে জানতে পারলাম, বিষয়টি সময় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে আছে। সময় বাড়িয়ে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য আমি নিজে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, যাতে দ্রুত টেন্ডার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আর আমার কাছে একটা জিনিস ডাউট হয়েছে, সেটা আমি তদন্ত করব। এখানে রোগীদের জন্য খাবার-দাবার ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। সেই টাকাগুলো সঠিকভাবে রোগীদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটাও আমি দেখব। এরপর একটি সমন্বয় সভা করব। সেখানে যারা দায়ী, যারা কাজ করেননি, তারা কেন শাস্তি পাবেন না— সেটাও জিজ্ঞেস করব।
জামালপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জেলার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আজিজুল হক, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহম্মদ মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














