কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১০ ১৮:২৪:৪৬
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত আমলের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ঢালাওভাবে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ায় অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও জোর দিতে হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
সাক্ষাৎকালে এপিইউবির প্রতিনিধিদল দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদল কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রয়োজন, বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মানকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ, গবেষণা, পেটেন্ট ও গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), বিদেশি ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন এপিইউবির প্রতিনিধিরা।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানান তারা।
রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার প্রসার, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কে বি এম মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














