ভাসমান বেডে সবজি চাষ বদলে দিচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১২ ১৪:৫৪:৪০
চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জের কোল ঘেষা নদী ডাকাতিয়া। এই নদীটির কচুরিপানা ছিল স্থানীয় মানুষের কাছে নৌচলাচলের প্রতিবন্ধকতা ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তবে ফরিদগঞ্জের শোভান এলাকায় কচুরিপানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৃষির নতুন সম্ভাবনা। যে উদ্ভিদ একসময় নদীর পানি আটকে দিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কারণ ছিল, সেই কচুরিপানাই এখন কৃষকের ভাসমান বেডের প্রধান উপকরণ। জলাবদ্ধ জমি ও নদীর অব্যবহৃত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষকের এই উদ্যোগ শুধু বিকল্প চাষপদ্ধতির উদাহরণ নয়, বরং জলবায়ু ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার স্থানীয় কৃষিজ্ঞানের ব্যবহার। কচুরিপানা এখন হয়ে উঠেছে কৃষকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্পদ। সরেজমিনে দেখা যায় কচুরিপানা, বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে জলাবদ্ধ জমিতে সবজি ও চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
জানা যায় , গত বেশ কিছু বছর ধরেই এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ চলছে। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে তৈরি করা ভাসমান বেডে লাউ, কুমড়া, লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন করা হচ্ছে চারা, উৎপাদিত চারা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগে স্থানীয় শহীদ তালুকদারের উদ্যোগেই এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি চাষের সূচনা হয় তারপর ধীরে ধীরে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ জনপ্রিয়তা পায়। প্রথম দিকে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ না দেখালেও। পরবর্তীতে উৎপাদন ও আয়ের সম্ভাবনা দেখে অন্য কৃষকরাও যুক্ত হতে শুরু করেন। বর্তমানে প্রায় শতাধিক কৃষক ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করছেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কম এবং অধিক লাভের কথা ও বলছেন অনেকে।
স্থানীয় কৃষক শহীদ তালুকদার জানান, বহুবছর ধরেই তিনি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন “এ বছর তিনি ৮০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। বেড তৈরি ও অন্যান্য কাজে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে মৌসুম শেষে উৎপাদিত সবজি ও চারা বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন তিনি কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, একসময় নদীর কচুরিপানা কোনো কাজেই আসত না। এখন সেই কচুরিপানা সংগ্রহ করে বেড তৈরি করে সবজি চাষাবাদ ও চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছেন তারা। এতে করে স্বল্প খরছে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজিরও একটি অংশ এখান থেকে নিয়মিতই জোগান দিচ্ছেন।
কৃষকদের দাবি ভাসমান কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ ও চারা সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সহজ শর্তে লোন প্রদানের মাধ্যমে জলাবদ্ধ এলাকার অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও কৃষকের আয়ও বাড়ানো সম্ভব। একই সাথে চাষাবাদে সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।
মো. রাব্বি ও মো. রাজিব বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য সহায়তা পাইনি। কৃষি বিভাগের সুবিধাগুলো কর্মকর্তাদের পছন্দের লোকজনই বেশি পাচ্ছেন।
তবে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জলাবদ্ধ এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তির আওতায় বিভিন্ন কৃষককে প্রদর্শনীসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, আমরা এবছরে ১৮ জন কৃষককে সহযোগিতা করেছি। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পাওয়া সহায়তা কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাসমান বেডে কৃষি সম্প্রসারণের জন্য আরও প্রকল্প ও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো গেলে আরও বেশি কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের সুযোগ পাবেন।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














