কেশবপুরে ৪২ ভরি স্বর্ণালংকার ও সাড়ে চার লাখ টাকা চুরি

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১১ ১৪:৫২:১৪


যশোরের কেশবপুর উপজেলা তিনটি গ্রামের চারটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘটিত এসব ঘটনায় মোট ৪২ ভরি স্বর্ণালংকার ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, চোরেরা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছাড়া অন্য কোনো মালামাল নেয়নি। এসব ঘটনায় কেশবপুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার মজিদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। আতিয়ার রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান জিকো জানান, তার বাবা আতিয়ার রহমান (৬৫) ও মা রাবেয়া বেগমকে (৫০) চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়। এরপর বাড়ির গেট, দরজা, আলমারি ও শোকেসের তালা ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অসুস্থ আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একই রাতে উপজেলার সাগরদাঁড়ী শেখপুরা গ্রামের মাস্টার আব্দুস সাত্তারের বাড়িতেও একই কৌশলে চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের স্বজনদের দাবি, বাড়ির সদস্যদের অচেতন করে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আব্দুস সাত্তারসহ পরিবারের তিন সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রেজাকাটি গ্রামের মাস্টার আব্দুল আলিম ও আব্দুল মমিনের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই বাড়ির সদস্যদের অচেতন করে মোট ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় আব্দুল আলিম, আব্দুল মমিন, তাদের মা মাহমুদা বেগম, বড় ভাবি রোজিনা বেগম ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু মধু অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, চারটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে। সবার সহযোগিতায় এই চক্রকে ধরে আইনের আওতায় এনে নির্মূল করার জন্য জোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

এনজে