যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়াল ডিজেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ২০২৬-০৯-১১ ১৪:২২:১০


বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।

এমন সময়ে এই রেকর্ড হয়েছে, যখন দেশটিতে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে চাপ বাড়ছে এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন।

জ্বালানির দামের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্যের বরাত দিয়ে অয়েলপ্রাইস ডটকম এ খবর জানিয়েছে। গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এক বছর আগের তুলনায় দেশটিতে ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ ডলার।

ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি খরচে সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, গৃহস্থালির সামগ্রী, ডেলিভারি সেবা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। ফলে ডিজেলচালিত গাড়ি নেই এমন পরিবারও শেষ পর্যন্ত এর বাড়তি খরচ বহন করে।

গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান বলেন, প্রতিদিন নতুন রেকর্ড তৈরি হয় না।

ডিজেলের এই রেকর্ড দাম অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের। এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও প্রতিটি পণ্য, চালান ও ডেলিভারির ব্যয় বাড়বে। সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে এর প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ সময় ডিজেলের মৌসুমি চাহিদা বাড়ে।

একই সময়ে বিভিন্ন শোধনাগারে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। ফলে চাহিদা বাড়ার সময়েই শোধনাগারগুলোর একটি অংশের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে।

তবে উদ্বেগের বড় কারণ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার নয়। বিশ্ববাজারেও ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে রয়েছে। ইউরোপে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২ ইউরোর ওপরে উঠেছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ গাড়িচালকদের বাড়তি খরচ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকারি সহায়তার মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে গেলে সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার মতো অতিরিক্ত শোধনক্ষমতা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর হাতে নেই। ফলে বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থায়। ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাক, জাহাজ ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় বাড়ে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যোগ হয়। অর্থাৎ জ্বালানির বাজারে শুরু হওয়া চাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।

এ কারণে ডিজেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু জ্বালানির বাজারের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সরবরাহে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত তৈরি হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। তাতে পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দামেও নতুন করে চাপ তৈরি হবে।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, তখন ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সরবরাহব্যবস্থায় জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় এর প্রভাব এক দেশ থেকে অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম

এনজে