উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই পুনর্গঠনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তিতুমীরের

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১৪ ২১:২৮:২৬


উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধি এবং বহুমুখী রপ্তানি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিজয় সরণীতে নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে তিনটি প্রধান ধাপের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো-অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ।

তিনি বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে একক পণ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচক বা ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো গবেষণা, বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণ ও প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত মুক্তবাজার শিল্পনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেশে পোশাক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

উদ্ভাবক ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আশ্বাস দেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। দেশে মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড’ বা গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বেসরকারি খাত বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অবদান রাখলে সরকার কর ছাড়সহ প্রয়োজনীয় রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দেন উপদেষ্টা।

বক্তব্যের শেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও দক্ষতার বিস্তার এবং তরুণ উদ্ভাবকদের হাত ধরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশে তরুণদের নতুন উদ্ভাবন ও মেধা বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ‘ইনোভেশন ফেয়ার’ বা উদ্ভাবনী মেলা আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সচিব বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এবং সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার পথ সুগম করা হচ্ছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন কেবল প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নেই। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্ভাবন বাজারে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে এবং বিদেশেও, যেমন ওমানে, রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সচিব জানান, গত তিন দিনে ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬৭১টি আবেদন থেকে দক্ষ প্যানেলের মূল্যায়ন ও বাছাইয়ের মাধ্যমে ৫০টি সেরা নিবন্ধিত উদ্ভাবনী দলকে নির্বাচিত করে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বিচারক প্যানেলের সিদ্ধান্তে সমাপনী দিনে সেরা ৫০টি উদ্ভাবনের মধ্য থেকে ইনোভেশন ফেয়ারে শীর্ষ ১০টি উদ্ভাবন নির্বাচিত হয়েছে। এগুলো হলো- হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি, অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি এবং সেলফ কন্টাক্টর।

নির্বাচিত শীর্ষ ১০ উদ্ভাবকের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার জন্য গাজী অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, যশোর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বিবিইউটি, খুলনা ইউনিভার্সিটি ও এআইইউবিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

মেলায় ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি স্টল ছিল। সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিজ্ঞানী, শিল্প উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএইচ