নবায়ন হয়নি নিবন্ধন সনদ, বন্ধ আভিভা ইক্যুইটির লেনদেন

সানবিডি২৪ প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১৬ ২৩:৪৪:৩৮


নিবন্ধন সনদ নবায়ন না হওয়ায় পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির স্টক-ব্রোকার ও স্টক-ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শেষ হওয়ায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

একই সঙ্গে আভিভা ইক্যুইটির ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) কার্যক্রমও স্থগিত করেছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। ফলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব লেনদেনের পাশাপাশি এর মাধ্যমে পরিচালিত বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকেও শেয়ার কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। বুধবার আভিভা ইক্যুইটির মাধ্যমে লেনদেন করা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ পাননি।

২ জুলাই নবায়নের আবেদন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আভিভা ইক্যুইটি নিবন্ধন সনদ নবায়নের জন্য গত ২ জুলাই ডিএসইর কাছে আবেদন করে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির সনদ নবায়নের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করেনি। ফলে সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০’-এর বিধি ৩ অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো স্টক-ব্রোকার বা স্টক-ডিলার সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। এ বিধানের আওতায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আভিভা ইক্যুইটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে লেনদেন বন্ধ করার পরও বুধবার দিন শেষে ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

সিডিবিএলের ডিপি কার্যক্রমও স্থগিত

ডিএসইর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিবিএলও আভিভা ইক্যুইটির ডিপি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সিডিবিএলের চিঠিতে বলা হয়েছে, উপ-আইনের ৫.৭.১(এম) ধারা অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ডিএসই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অথবা বিএসইসি নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

নিষ্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন

নিবন্ধন সনদ নবায়নের সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ লেনদেন স্থগিত করায় মঙ্গলবার সম্পন্ন হওয়া লেনদেন এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে আভিভা ইক্যুইটির মাধ্যমে লেনদেন করা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম বন্ধ হলে শুধু প্রতিষ্ঠানটি নয়, এর সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাও প্রভাবিত হয়। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও স্পষ্টভাবে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

আগে থেকেই তদন্তের মুখে

আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ঋণ, আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তদন্ত শুরু করে বিএসইসি। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

বিএসইসি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আভিভা ফাইন্যান্স থেকে নেওয়া ঋণের ব্যবহার, ঋণের অর্থ কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষকে মার্জিন ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে কি না, অর্থপাচারে ব্যবহার হয়েছে কি না এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় ছিল।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি, সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) ঘাটতি, নেগেটিভ হিসাবধারীদের ঋণ দেওয়া, ডিলার ও নেগেটিভ হিসাবে শেয়ার স্থানান্তর এবং অতিরিক্ত দামে প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগও রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

রিলায়েন্স থেকে আভিভা

আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের আগের নাম ছিল রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ফাইন্যান্স এবং একই সময়ে রিলায়েন্স ব্রোকারেজের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালেও প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে জটিলতার কারণে রিলায়েন্স ব্রোকারেজের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন ও সনদ নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিষয়টি বিএসইসির বিবেচনায় ছিল।