নুসরাত হত্যা ১৬জনের প্রাণদন্ড চেয়ে চার্জশিট দাখিল

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০৫-২৯ ১৫:৩১:০৪


ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) মাত্র ৪৮ দিনের তদন্তে নুসরাত খুনের এ অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে।

আজ বুধবার (২৯মে) ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

অভিযোগপত্রে মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সবাই গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আজ যে চার্জশিট জমা দেয়া হতে পারে সেটি গতকালই জানানো হয়েছিল। ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ৭২২ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় জেলে থাকলেও তার নির্দেশনায়ই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বাকি আসামিরা হলেন- সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম (৫০), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আফছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মণি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আবদুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), মোহাম্মদ শমীম (২০) ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

পিবিআইপ্রধান জানান, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নেন পাঁচজন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘প্রথমে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে অনেকেই বলেছেন, মাদরাসার আলেমদের অপমান ও প্রেমের ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা সেটি পাইনি। আমরা পেয়েছি ওই মাদরাসার সকলের স্বার্থে এই মেয়েটি ঘা দিয়েছিল। ওই মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ক্ষমতা, ছাত্রীদের এখানে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন করার ক্ষমতা ভয়াবহ। এই মেয়েটি এর প্রতিবাদ করে। যে কারণে তাকে তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে হত্যা করে।’

বনজ কুমার আরো বলেন, “সিরাজ-উদ-দৌলার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির পুরো ঘটনায় সবার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে। জবানবন্দিতে তিনি নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি (অধ্যক্ষ) বলেছেন যে ‘নুসরাতকে প্রথমে প্রেসার দিবা। না হলে খুন করবা’। খুনের পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন যে ‘আগুন দিয়ে খুন করবা এবং আত্মহত্যা বলে চালাবা’।”

সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে পিবিআই প্রধান বলেন, নুসরাত পরীক্ষা দিতে এলে পরিকল্পনা মতো উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতকে তার বান্ধবীকে মারধরের কথা বলে। নুসরাত দৌড়ে ছাদে যায়। ছাদে যাওয়ার পর মামলা তুলতে চাপ দিয়ে তাকে একটা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। সেখানে পাঁচজন বোরকা পরে অংশ নেয়। তাদের দুজন মেয়ে—উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও কামরুন নাহার মনি। কিন্তু নুসরাত রাজি না হওয়ায় শামীম তার মুখ চেপে ধরে এবং পপিকে বলে নুসরাতের বোরকার ভেতর থেকে তার ওড়না বের করে নিতে। পপি ওড়না বের করে নিয়ে জোবায়েরকে দেয়। জোবায়ের ওড়নার এক অংশ দিয়ে নুসরাতের পা বাঁধে এবং পপি পেছনে হাত বাঁধে। এরপর তিনজন মিলে নুসরাতকে শুইয়ে ফেলে। শামীম মুখ চেপে ধরে। পপি ও জুবায়ের পা চেপে ধরে ওড়না দিয়ে গিঁট দেয়। আগে থেকে ছাদে কালো পলিথিনে রাখা ছিল কেরোসিন ও কাচের গ্লাস। সেই গ্লাসে কেরোসিন নিয়ে নুসরাতের গায়ে ঢেলে দেয় জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন। পরে শামীমের ইঙ্গিতে জোবায়ের দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়াদের মধ্যে দুজন মেয়ে সামনের দিকে থেকে বের হয়ে আস্তে আস্তে পরীক্ষার হলে ঢোকে। আরেকজন পরীক্ষার্থী ছিল জাবেদ। সেও পরীক্ষার হলে যায়। সে পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে বোরকা দিয়ে যায় শামীমকে। শামীম মূল গেট দিয়ে না গিয়ে পেছনে দিক হয়ে বের হয়ে যায়। জোবায়ের অত্যন্ত সাহসী। সে বোরকা পরে ঘুরে মূল গেটে আসে। সেখান দিয়ে একজন মেয়ে হিসেবে সে বের হয়ে

 

সানবিডি / এমএফইউ