বুয়েটে আন্দোলনকারীরা জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মা : জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৮-১৪ ১৬:৪৮:৪৫


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে হওয়া শোকসভার যারা বিরোধিতা করেছেন তাদের শিবির আখ্যা দিয়ে এই ক্যাম্পাসে আবারও ছাত্ররাজনীতি সচল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানবন্ধনে এই আহ্বান জানান তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবিতে ঢাবি ছাত্রলীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘গতকাল বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে জাতির পিতা এই বাংলাদেশের জন্য কী। সুতরাং জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কী বোঝাতে চান? ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? আপনাদের জন্য অশনিসংকেত। এ বিষয়ে আপনাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত।’

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার এখতিয়ার কারও নেই। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের জন্য কথা বলবে আর ছাত্ররাজনীতি চলবে। এটিই মেনে নিতে হবে। আপনাদের বিষয়টি নিয়ে আবারও বিবেচনা করতে বলব। ছাত্ররাজনীতি আবারও সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। বাংলদেশের তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপনাদের অনুরোধ করছে।’

আল নাহিয়ান জয় বলেন, ‘তারা কারা যারা স্লোগান দেয়, ছাত্রলীগের ঠিকানা, বুয়েট ক্যাম্পাসে হবে না- এত সহজ! এটা এত সহজ না। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চিতে ছাত্রলীগের ইতিহাস রয়েছে। ছাত্রলীগকে যারা ঠিকানা মনে করেন না তাদের উদ্দেশ্য আমরা বুঝে গিয়েছি। তাদের উদ্দেশ্য হলো বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁঠাল ভেঙে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করা।’

বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের পাশে আমরা আছি। কুচক্রী শিবিরদের আপনারা প্রতিহত করবেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের কেউ যেন ওই দুষ্কৃতকারী-বাটপারদের কথা শুনে আন্দোলনে না নামেন। যারা ছাত্রলীগকে নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছে তাদের বিচার হবে৷’

এ সময় তিনি প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর শোকসভা বানচাল করার জন্য প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছ, তাদের আপনারা খুঁজে বের করুন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত। কারণ তারা সংবিধান লঙ্ঘন করার মতো কাজ করেছে।’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। ছাত্রলীগের ব্যানারে এদিন বিকেলে আয়োজনটি ঘিরে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারের আলোচনা সভা ঘিরে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘আবরারের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে রাতে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া কোনো শিক্ষার্থীই তাদের পরিচয় বলেননি।

এএ