খুলনা বিভাগে একদিনে রেকর্ড ৩৩৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
সানবিডি২৪ আপডেট: ২০২৬-০৯-০৬ ২১:৫৭:০৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবনঘেরা খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০৯ জন। হঠাৎ করে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে খুলনায় সর্বোচ্চ ১৬৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৫ জন।
খুলনার পর যশোর-বাগেরহাটেও বাড়ছে চাপ
বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কম নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে ৩৭ জন, বাগেরহাটে ১৯ জন, ঝিনাইদহে ১৬ জন, মাগুরায় ১৪ জন, সাতক্ষীরায় ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সাতক্ষীরায় ভর্তি হওয়া ১৫ জনের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৯ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৯ মাসে আক্রান্ত ৭ হাজার ১৮৩
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৭ হাজার ১৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৮৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে ২১ জনের
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, খুলনা জেলা হাসপাতালে ২ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন মারা গেছেন।
একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, অন্যদিকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
একদিনের রেকর্ড সংক্রমণে নতুন উদ্বেগ
চলতি বছরের মধ্যে একদিনে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ২০৯ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা বিভাগের চলমান পরিস্থিতি বলছে, ডেঙ্গু এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো এলাকার সমস্যা নয়; বরং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। একদিনে রেকর্ডসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৫৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে মোট ১১৭ জনের, আর হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়াল ৪২ হাজার ৫৯০ জনে। এতে বলা হয়েছে, নতুন ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৩ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৪৮ জন ভর্তি হন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ৩১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৯ জন, খুলনায় ৩৩৪ জন ও ময়মনসিংহে ৮৪, রাজশাহীতে ১১২, রংপুরে ৫৯ এব সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, সে বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














