প্রতিবেশী দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে যুবসমাজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১৭ ২১:০৯:০১


প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ যাতে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যেই মাদক ঢোকানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী তাজ প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মাদক নয়, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতাই হোক তারুণ্যের শক্তি’ প্রতিপাদ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের কোথাও কিন্তু মাদকের ফ্যাক্টরি নেই। এগুলো আসলো কোথা থেকে? পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে। তারা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢুকিয়ে দেয় এবং দিচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের যুবসমাজ ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।

তিনি বলেন, আমরা কি আমাদের দেশ গড়ব, নাকি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব? আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে স্পিড ধারণ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ। সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদকের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোনো কোনো এলাকায় মাদকাসক্তির হার ২৩ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এখনই মাদকের লাগাম টেনে না ধরলে এবং মানুষকে সচেতন করা না গেলে একসময় দেশ বিপর্যয়ের দিকে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ধাবিত হলে এর প্রভাব শুধু পরিবারে নয়, পুরো দেশেই পড়বে।

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুকু বলেন, মাদকাসক্তির কারণে পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ পরিণতি তৈরি হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে কোনোভাবেই মাদকের বিস্তার বাড়তে দেওয়া যাবে না। মাদকের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে ডাবের খোসা, পানির পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে ডেঙ্গুর মশা জন্মাতে পারে। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।

এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল আলম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম, পুরোহিত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক।

বিএইচ