মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২৬ ১৬:৩৯:২০


আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) এবং ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের (এফএমএম) সঙ্গে ডিসিসিআইয়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের পৃথক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাসকীন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং খাদ্যপণ্যসহ দেশের বিভিন্ন খাতের পণ্য ও সেবা আসিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও মালয়েশিয়ার পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উচিত।

অনুষ্ঠানে এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের ব্যবসায়িক যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করলেও বাংলাদেশের বৃহৎ ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তা শ্রেণির বাজারে মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।

এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর এফএমএম আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে। এর সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততাও ক্রমাগত বেড়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব।

বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে জ্যাকব লি চোর কক বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মালয়েশিয়ায় দক্ষ, পরিশ্রমী ও মানসম্পন্ন জনশক্তি সরবরাহ করে আসছে, যারা দেশটির অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব কর্মী বাংলাদেশে ফিরে গেলে মালয়েশিয়ায় অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে কাজে লাগাতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ ও জ্ঞান বিনিময়েও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, দেশটির মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) পরিচালক নাইম আব্দুল রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার ও এফএমএম-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক।

এছাড়া দুই দেশের উদ্যোক্তারা প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশনে অংশ নেন। এসব সেশনে তারা ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

বিএইচ