ইউজিসি সদস্য ড. মামুন
৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২৬ ২০:৫৬:১২
দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। দেশে-বিদেশে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন বলেন, বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত একটি ভাষার জ্ঞান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সক্ষম করে তুলবে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও আরবিসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদেশি ও স্থানীয় ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে ইউজিসি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে ম্যান্ডারিন ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় চীনের দূতাবাসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
ভাষা শিক্ষার সঙ্গে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ম্যান্ডারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি, গবেষণা ফেলোশিপ, সামার স্কুল, একাডেমিক সম্মেলন এবং শিক্ষক-গবেষক বিনিময়ের সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রির সুযোগ তৈরিতে ইউজিসি কাজ করছে। চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিকীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মসংস্থানের বিষয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাণিজ্য, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। নিজ নিজ বিষয়ে জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা থাকলে স্নাতকদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিসি ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি এবং বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ। এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














