প্যাকেজিং খাতের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস বিরোধীদলীয় নেতার
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২৭ ২১:৪০:০৪
প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের সমস্যা এবং সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিপিএএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে।
সভায় বিপিএএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ারের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
বিপিএএমইএ সভাপতি বলেন, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়। দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে ওষুধসহ বিভিন্ন শিল্পের প্যাকেজিংয়ের চাহিদা পূরণ করছে এ খাত।
সভায় জানানো হয়, বিশ্বে পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজারের আকার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে এ খাতে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। অন্যান্য প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজসহ বৈশ্বিক বাজারের আকার প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বলে সভায় তুলে ধরা হয়।
এ বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে খাতটির সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিপিএএমইএ নেতারা বলেন, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্পের বিকাশ ঘটলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্পও উপকৃত হবে। এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতা চান তারা।
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান খাতটির সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদে বিষয়গুলো তুলে ধরার আশ্বাস দেন। তিনি নিজেও বিষয়গুলো মনিটরিং করবেন বলে জানান।
সভায় বিপিএএমইএর পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকে দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের দাবি, এতে ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি এবং দেশীয় বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শিত হবে।
এ ছাড়া সময় ও সুযোগ অনুযায়ী বিশ্বমানের এবং সর্বোচ্চ লিড সনদপ্রাপ্ত একটি প্যাকেজিং কারখানা পরিদর্শনের জন্যও বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, মতিউর রহমান আখন্দ এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপিসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান, উপদেষ্টা খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম, সহসভাপতি ও পরিচালকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিপিএএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, ব্যবসায়ী নেতাদের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করবেন, আর ব্যবসায়ী নেতারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজনীতিবিদদের পরামর্শ দেবেন। তিনি বলেন, মূলত এ লক্ষ্যেই আজকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














