বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১৪ ১১:৫৫:৫৯
গিয়াস উদ্দিন, ব্যাংকক থেকে:
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর অংশ হিসেবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ এসব সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সংস্থাটির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
জর্জিয়েভা বলেন, করোনা মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
এদিকে বুধবার সকালে ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সমর্থন ও সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
তিতুমীর বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একমত হয়েছেন যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মনে করছেন। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে।
আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নিশ্চয়তা পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সংস্কারে গুরুত্ব
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি দামের প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন ও অর্থায়ন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতিশ্রুত সহযোগিতা কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্ভর করবে।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













