বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন, ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

সানবিডি২৪ আপডেট: ২০২৬-১০-১৩ ১৩:০৯:৫৮


গিয়াস উদ্দিন, ব্যাংকক থেকে:

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের চাপ সামলানোর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বাস্তবতা বিশ্বব্যাংক উপলব্ধি করছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য সরকার যে কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছে, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত। এ বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক আগ্রহী এবং প্রস্তুত রয়েছে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে ঢাকাতেও আলোচনা চলবে।

তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক কেমন হবে, তা লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজস্ব প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেছে। এসব বিষয়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী সরকার

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই মূল কথা।’

সরকারের বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা, অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এনজে