সৌদির তিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি হুতিদের, সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১৩ ২১:০৮:২৭


ইয়েমেনের রাজধানী সানায় যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত হুতি বিদ্রোহীরা। এর অংশ হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবের জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রাণকেন্দ্রকে ধ্বংস করার কড়া হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক ঘোষণায় হুতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সানা আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদেই অবস্থিত আরামকোর শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তারা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যেই তিনি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত সকল বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং সাধারণ শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে ওইসব এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুধু তেলক্ষেত্রই নয়, এর আগে যেসব বিমানবন্দর ও আকাশপথকে হুতিরা নিজেদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেই একই কারণে বিমান সংস্থা, সাধারণ যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্মীদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হুতিদের এই নতুন হুমকি দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান সংঘাতের পারদকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। মূলত এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালেই, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশনটি সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন একটি সামরিক অভিযানের আগেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতেই এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর ঠিক এর পরপরই পাল্টা জবাবে হুতিরা এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তারা সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে রিয়াদ এবং দাম্মামের উল্লেখিত তিনটি মূল স্থাপনা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সৌদি বাহিনী যদি সানায় তাদের পূর্বঘোষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তার বিপরীতে এই স্থাপনাগুলোতেও অবধারিতভাবে হামলা চালানো হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই সংকটময় মুহূর্তে এই পারস্পরিক হুমকি-ধমকি পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

বিএইচ