যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না থামালে বড় বিপদে পড়বে ইউক্রেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১২ ১৪:৩৪:৪০
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং দেশটির জন্য ইউরোপের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র কেনার ব্যবস্থা স্থগিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের কাছে এ বার্তা পাঠায়। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রও জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ হামলা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে। তাই দুই দেশকেই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি।
যদিও, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধও জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গত রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তিনি এই সমঝোতাকে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইউক্রেনের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।
ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে। রাশিয়াও যাতে এতে সম্মত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সহায়তা বন্ধ হলে রুশ হামলা মোকাবিলায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়। এসব তথ্যের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল এবং হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ও সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলো ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনে অগ্রাধিকারভিত্তিক ইউক্রেনীয় চাহিদা তালিকা (পিইউআরএল) কর্মসূচির আওতায়।
এই ব্যবস্থা স্থগিত হলে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়ানোয় ইউক্রেনের কাছে এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চাহিদা বেড়েছে। এরই মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে রয়েছে দেশটি।
তবে ইউরোপের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্ত পর্যন্ত পিইউআরএল কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তনের খবর ন্যাটো পায়নি।
ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে হোয়াইট হাউজে উত্তপ্ত বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে এই সহায়তা স্থগিত করেছিল।
পরে সৌদি আরবে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে ইউক্রেন সম্মত হলে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার চালু করা হয়।
এবার নতুন করে সহায়তা বন্ধের হুমকি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: সিএনএন
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













