চীনের সাথে যৌথ বিনিয়োগে নজর বাংলাদেশের
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১৪ ১৩:২৭:০০
গিয়াস উদ্দিন, ব্যাংকক থেকে: চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু ঋণের ওপর নির্ভর না করে অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এত দিন সার্বভৌম ঋণ ও অন্যান্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা ছিল, তা কমিয়ে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগে ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঋণনির্ভর উন্নয়ন থেকে বিনিয়োগমুখী অর্থায়ন
সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে।
এ ধরনের কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে অর্থায়নের উৎসে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঋণনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তবে কোন কোন প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগ করা হবে, অর্থায়নে বাংলাদেশ ও চীনের অংশীদারত্বের অনুপাত কী হবে এবং নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান চেয়েছে বাংলাদেশ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ অর্থায়ন বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি অর্থমন্ত্রী।
কৃষি খাতে সহযোগিতা নিয়ে ইফাদের সঙ্গে আলোচনা
অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, নির্দিষ্ট প্রকল্প কিংবা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা এবং ইফাদের সঙ্গে কৃষি সহযোগিতা নিয়ে এসব আলোচনা বাংলাদেশের অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তব বিনিয়োগ ও সহায়তায় রূপ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













