সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন

নির্বাচিত হই বা না হই, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-১০-১৪ ১৮:৫৪:৩৩


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীন বলেছেন, নির্বাচিত হই বা না হই, কখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার পূজামণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় দুই উপজেলার ১৬১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ৯৬ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়।

কাজী আলাউদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট ও সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছে। তিনি নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও এলাকার মানুষের পাশ থেকে সরে যাননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় প্রার্থীকে ডেকে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং অন্য প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করায় তাঁকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান আমরা সবাই ভাই ভাই।’ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে তৃণমূলের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।

কালিগঞ্জ উপজেলার মন্দিরগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাজী আলাউদ্দীন জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার ৪৬টি মন্দিরের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি মন্দিরগুলোর উন্নয়নেও পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো। এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি মণ্ডপে ১০০ কেজি করে চাল বেশি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দের সঙ্গে আরও ৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

আশাশুনি উপজেলায় ১০৬টি এবং কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি পূজামণ্ডপে এ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে চালের বরাদ্দপত্র (ডিও) তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহাদি হাসান শিহাব, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রনজিত সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ঘোষ।

অন্যদিকে, বিকেল ৩টায় আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। এতে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, সাধারণ সম্পাদক রনজিত বৈদ্য ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু জাহিদ সোহাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম।

বিএইচ