শাহজালাল ইক্যুইটির অনিয়ম উদঘাটনে বিএসইসি’র বিশেষ তদন্ত কমিটি

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৪-০২ ২০:১৮:০৫


পুঁজিবাজারে সেবা দানকারী মার্চেন্ট ব্যাংক শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিষয়ে বিশেষ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানসহ আরও কিছু বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে এই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

সংস্থাটি মনে করছে, পুঁজিবাজারের বৃহৎ স্বার্থ রক্ষায় ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাবের বিষয়ে বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ও এই কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে আদেশ জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ইন্সপেকশন, ইনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর কমিশনের ৯৭৩তম সভায় শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসইসি। প্রতিষ্ঠানটি একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বিএসইসির তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, একমি পেস্টিসাইডস প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টে টাকা ছাড়াই শেয়ার বরাদ্দ, হিসাব কারসাজি ও প্রসপেক্টাসে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এসব অনিয়ম যাচাইয়ের দায়িত্ব ছিল ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে জালিয়াতিপূর্ণ প্রসপেক্টাসকে অনুমোদন দিয়েছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট। একারণে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

যেসব বিষয়ে তদন্ত হবে

প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বিশেষ তদন্তে ৬ টি বিষয়ে কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশনস এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর বিধিবিধানের লঙ্ঘনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হবে কিনা সে বিষয়ে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রাপ্য হিসাব (রিসিভেবলস) ও প্রদেয় হিসাবের (পেয়েবলস) বিস্তারিত তথ্য এবং সর্বশেষ সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্যও কমিটিকে বলা হয়েছে। এছাড়াও সিকিউরিটিজ ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি বিধানের লঙ্ঘনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে তথ্য প্রদানের কথা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসইসির তিন কর্মকর্তাকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন, বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শামসুর রহমান, উপপরিচালক শাহনেওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক আতিকুল্লাহ খান। তদন্ত কমিটির সার্বিক তত্বাবধানের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএসইসির পরিচালক আবুল কালামকে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএইচ