পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

আপডেট: ২০২৬-০৬-২৭ ১০:৩৪:২০


ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা টাকা। ছয় মাস পর আজ শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। এর পর থেকে চলছে গণনা।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছেন, রূপালী ব্যাংকের প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদরাসার প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘ ছয় মাস পর দানসিন্দুক খোলা হওয়ায় এবার প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অ‌তি‌রিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সা‌কিব খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণনার কাজ তদারকি করছেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। তারও আগে একই বছরের ৩০ আগস্ট চার মাস ১৮ দিন পর দানসিন্দুক খুলে পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। ওই সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হীরাও পাওয়া গিয়েছিল। এবার ছয় মাস পর দানসিন্দুক খোলায় স্বাভাবিকভাবেই দানের পরিমাণ আরো বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দানসিন্দুক থেকে টাকা বের করে বস্তায় ভরতে ৪৩টি বস্তার প্রয়োজন হয়েছে।

জানা গেছে, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ তলাবিশিষ্ট একটি বৃহৎ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ভবনে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, এতিমদের শিক্ষাব্যবস্থা, মাদরাসা, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনসহ নানা আধুনিক সুবিধা থাকবে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে এ উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

এনজে