চলতি বছরেই ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৮-৩০ ০৯:৪২:২৩


ইরানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আফগানিস্তানের অন্তত ২০ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত এসব আফগান নাগরিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রতিটি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে অন্তত তিনজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, এসব মামলায় অভিযুক্তদের আইনজীবীদের কাছে সীমিত সুযোগ ছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারকেও মামলার অগ্রগতি ও স্বজনদের অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরাজের আবেলাবাদ কারাগার, তায়বাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইস্ফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে ইস্ফাহানের আলিখানি স্কয়ারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছিল।

এ ছাড়া আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে গত জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফগান নাগরিকদের এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ইরানে প্রকৃতপক্ষে কতজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে ইরানে ৮৫ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সূত্র: খামা প্রেস

বিএইচ