নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের ৩ উপকার

সানবিডি২৪ ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৮-৩০ ১০:৩০:১৫


পবিত্র কোরআন শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি মানুষের জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পান, অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করেন এবং পরকালে কোরআনের সুপারিশ লাভের আশা করতে পারেন।

তাই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াতের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের তিনটি বিশেষ উপকার তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ

কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা একজন মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আল্লাহর বিশেষজন। সাহাবিরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা হলো কোরআনের অনুসারী ও কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মানুষ।

কোরআন তিলাওয়াত করা, তা শেখা ও বোঝা এবং এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা একজন মানুষকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের সুযোগ করে দেয়।

তাই কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু রমজান বা বিশেষ কোনো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বজায় রাখা উচিত। প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত তিলাওয়াত এবং এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে।

২. পরকালে কোরআনের সুপারিশ লাভ

নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের অন্যতম বড় ফজিলত হলো কিয়ামতের দিন এর সুপারিশ লাভের আশা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার সঙ্গীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।

পরকালের কঠিন সময়ে কোরআনের এই সুপারিশ একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। যারা দুনিয়ায় কোরআন তিলাওয়াত করেছেন, এর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং জীবনে তা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন, তাদের জন্য কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষ মর্যাদার কারণ হতে পারে।

তাই কোরআনকে শুধু বিশেষ অনুষ্ঠান বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে নেওয়া উচিত।

৩. অন্তরের প্রশান্তি লাভ

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা, হতাশা ও নানা ধরনের অস্থিরতা আসতেই পারে। পরিবার, অর্থনীতি, কর্মজীবন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে অনেক সময় মানুষের মন অশান্ত হয়ে ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে কোরআন মুমিনের জন্য প্রশান্তির অন্যতম উৎস হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’

কোরআন তিলাওয়াত আল্লাহর স্মরণের অন্যতম মাধ্যম। মনোযোগ দিয়ে কোরআন পড়া এবং এর অর্থ ও শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করা মানুষের অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করে। এর মাধ্যমে একজন মুমিন দুশ্চিন্তা ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে পারেন।

তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য কিছু সময় রাখা উচিত। অল্প কয়েকটি আয়াত হলেও নিয়মিত তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুললে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ে প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিএইচ