মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে স্টিয়ারিং কমিটি
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৮-৩১ ২০:২২:৩১
বাণিজ্য ভিত্তিক মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক মানিলন্ডারিং একটি জটিল, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক এবং আন্তঃদেশীয় প্রকৃতির আর্থিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, টিবিএমএলের পদ্ধতি ও কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তিত এবং অধিকতর জটিল হচ্ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ঝুঁকি বিশ্লেষণ কাঠামো প্রয়োজন।
এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় একক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় পিপিপি মডেলের আওতায় একটি আন্তঃসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত এই কমিটি বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা, ঝুঁকি প্রশমন কৌশল প্রণয়ন এবং তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা ও এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো নির্ধারণে কাজ করবে। একই সঙ্গে কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি টিবিএমএল কার্যক্রম শনাক্তকরণ, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে কাজ করবে বলে সভায় জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জটিল ও পরিবর্তনশীল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং তথ্য বিনিময়ভিত্তিক সহযোগিতামূলক কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং অন্যান্য জটিল আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের সমন্বিত কাঠামো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও টিবিএমএল প্রতিরোধে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ ও ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালকরা অংশ নেন। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন অধিদপ্তর (সিআইআইডি), ঢাকা কাস্টমস হাউস, বেনাপোল কাস্টমস হাউস, আইসিডি কমলাপুর, মোংলা কাস্টমস হাউস, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ট্রেড ভ্যালু বিবেচনায় ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা টিবিএমএল প্রতিরোধে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













