বিরোধীদলীয় নেতা
প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৯-১৯ ১৮:১৪:৪৭
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিন বহু নাটক করা হয়েছে। আমরা কোনো নাটকের পরোয়া করি না। কথা দিচ্ছি—রাস্তায় নেমেছি জনগণের জন্য, প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা শুধু ডাক দিয়েছি আসেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে চাই। অমনি আপনারা ঘর থেকে বের হয়ে আজকে বগুড়ার এই জায়গাটাকে একটা জনসমুদ্রে আপনারা পরিণত করেছেন। আপনাদেরকে মোবারকবাদ। আমরা কেন এই লং মার্চের ডাক দিলাম? সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম। জায়গায় জায়গায় শুধু বলে, বিরোধীদল এত আগে লং মার্চ করতেছে কেন? আমরা জিজ্ঞেস করি, ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭০ ভাগ জনগণ রায় দিলো গণভোটে হ্যাঁ বলে। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও ভোট চেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, আজকে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতো না।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাত মাস চলে গেছে। সংসদের তিনটি অধিবেশন অতিক্রান্ত হলো। আপনারা জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠন করেছেন, আপনারা সনদ বাস্তবায়ন করেন নাই কেন? আপনারা বলেছিলেন, দুর্নীতি টুঁটি চেপে ধরবেন। আপনারা বলেছিলেন, এক কোটি মানুষকে আপনারা চাকরি দিবেন। আপনারা এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছেন। দুর্নীতির রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দিবেন। এখন যিনি মহামান্য প্রেসিডেন্ট, তিনি তখন বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন মাঠে-ময়দানে। তার স্লোগান ছিল গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। এখন আমাদের স্লোগান হলো গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে স্লোগান দিয়েছিলেন, সেটাই আমরা বলছি। আপনারা দিচ্ছেন না বলেই আমাদের লং মার্চ।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার আপনারা কেড়ে নিচ্ছেন। আমাদের সন্তানরা, আমরা মিলে যুদ্ধ করে, লড়াই করে ২৪-এ ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে তাদের চাকরির অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জীবন দিয়েছে ১৪০০ সন্তান। আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনে আরেকবার জীবন দিতে প্রস্তুত। তবু বৈষম্য আমরা বরদাস্ত করবো না। জায়গায় জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে মানুষকে শোষণ করছেন। আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো। এর জন্য আমাদের লংমার্চ।
সার ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার কৃষক বন্ধুটি সার পায় না। ঠিক ১৪০০ টাকার সার তাকে ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ দিতে পারে না। আবার ডাবল, ট্রিপল বিল দেন আমাদের হাতে ধরায়ে।
বিদ্যুৎমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই বগুড়ার পাশের ডিস্ট্রিক্ট হলো সিরাজগঞ্জ। তাই না? মন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ি ওখানেই। উনি বলে যে, আমাদের দেশে কোনো লোডশেডিং নাই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নাই, গ্রামে বিদ্যুতের তার একটু লম্বা, এইজন্য বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না। লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার আমলে প্রতিমন্ত্রী ছিল, ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তার সন্তান এসে তাকে প্রমোশন দিয়ে ফুল মন্ত্রী বানিয়েছে। যা হবার তাই হচ্ছে, জাতির ১২টা বাজতেছে।
আগামীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এবারকার লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামীর লং মার্চ ইনশাআল্লাহ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। আপনারা প্রস্তুত আছেন? এখন থেকে আপনারা প্রস্তুত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের জনসভায় আসতেছি, সবাই আমারে এক আঙুল দেখায়। আমি বুঝি না যে আমারে এক আঙুল দেখায় কেন। আমি গাড়ির জানালার গ্লাস নামাইলাম। গ্লাস নামানোর পরে বলে, দাদু, দাদু, এক দফা, এক দফা। এক দফা, সবাই বুঝেন তো? সেই এক দফার ডাক আসলে সবাই প্রস্তুত।
আট দফা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের আট দফা মানা হোক, আমরা এটা চাই। এই আট দফা কোনো দলের নয়, গোষ্ঠীর নয়, ব্যক্তির নয়। এই আট দফা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের। এই আট দফা যদি মানা হয়, এক দফার দরকার নাই। যদি আট দফা মানা না হয়, তাহলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকো। সেই এক দফার ডাক আমরা দিতে যদি বাধ্য হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ একসাথে লড়াই করে জনগণের বিজয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।
নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে রাস্তায় আসতে আসতে দেখলাম, হাজার হাজার মা-বোন তারা রাস্তায় নেমে আমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ২৪-এর আন্দোলনে মা-বোনেরা নেমেছিল। সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
কুমিল্লার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদ ইসলাম বললেন যে, দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা ম্যাডামের কলিজার টুকরা সন্তান, বয়স মাত্র ১৩ বছর, ক্লাস সেভেনের ছাত্র। বাবা একটা পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, সন্তানকে কোথায় খুঁজবো, সমুদ্রে না জঙ্গলে? সন্তানের লাশ পাওয়া গেল। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার পিতার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে দাবি করছি, মেহেরবানি করে এই জাতির নিরাপত্তা দিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব যাকে দিয়েছেন, তিনি সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের কোনো খোঁজ রাখতে পারেন না। মেহেরবানি করে বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। আমরা জানি, আপনি পারবেন না। কারণ, সর্বাঙ্গে ব্যথা, আপনি মলম লাগাবেন কোথায়?
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














