তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে চট্টগ্রামে বাড়তি বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৯-২২ ১১:০০:৫৪


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো রুটে ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার নগরীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নগরীর ১০ নম্বর রুটের বাসে ২ নম্বর গেইট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আগে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও সোমবার কোনো কোনো বাসে ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা রুটেও আগে ১৫ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ১৮ থেকে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

এ ছাড়া কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা সি বিচ পর্যন্ত ১০ নম্বর রুটের নন-এসি বাসের ভাড়া ছিল ৬৮ টাকা। সোমবার কোনো কোনো বাসে এ দূরত্বে ৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১০ নম্বর রুটের একটি বাসে ২ নম্বর গেইট থেকে আগ্রাবাদ যাওয়ার সময় ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষিকা হাস্না হেনা। তিনি বলেন, আগে এই দূরত্বের ভাড়া ১৫ টাকা দিয়েছি। আজ ২০ টাকা চাওয়া হয়েছে। পাঁচ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। কেন বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে বলে তেলের দাম বেড়েছে।

মুরাদপুর থেকে আন্দরকিল্লা যাতায়াতকারী বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল বশর বলেন, পেট্রলচালিত টেম্পুতে আগে ১৫ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন ২০ টাকা নিচ্ছে।

তবে ১০ নম্বর রুটের চালক শফিউল আলম বলেন, কিছু কিছু বাসে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। আমরা ২৪ ঘণ্টা পর বর্ধিত ভাড়া নেব।

যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকাও টানানো হয়নি। ফলে চালক বা হেলপার যে ভাড়া চাইছেন, সেটিই দিতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালে অনেক সময় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের তর্কে জড়াতে হচ্ছে।

যাত্রীদের আরও অভিযোগ, গ্যাসচালিত বাসে গ্যাসের সংকটের সময়ও ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। পরে সংকট কেটে গেলেও সেই ভাড়া কমানো হয়নি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়া হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো মানে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মুখোমুখি অবস্থানে ফেলা। যাত্রীরা হঠাৎ বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি হবে না। আর পরিবহন শ্রমিকরা অপারগ হয়ে বাড়তি দামে তেল কিনছেন। তাই এটাকে এডজাস্ট (সমন্বয়) কিভাবে করা যায় তা নিয়ে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় আমরা বসবো। মিটিংয়ে কি সিদ্ধান্ত হয়, তা পরে জানানো হবে।’

সার্বিক বিষয়ে সরকারের বিকল্প চিন্তার প্রয়োজন উল্লেখ করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকার এখন বৈশ্বিক সংকটের কথা বলছে। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে লাভ করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। সেই অর্থের একটি অংশ পড়ে ছিল। সংকটকালীন সময়ে সেই লাভের অর্থ ব্যবহার করা যেত কি না এবং বিকল্প কোনো পথ বের করা যেত কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।’

এনজে