সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালি পণ্য পরিচালনায় ওয়ালটনের ‘সোলার ইকোসিস্টেম’ চালু

সানবিডি২৪ ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১০ ১৯:১১:৫৬


সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি গৃহস্থালির ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনায় সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ উন্মোচন করেছে ওয়ালটন। এ ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্রিজ, স্মার্ট টিভি, ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেনসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য চালানো যাবে। এর মাধ্যমে শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ সোলার ইকোসিস্টেমের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ওয়ালটন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব কারখানায় ছাদে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব কারখানার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্নাসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর অর্থমন্ত্রী ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার কেবল, স্টোরেজ ইনভার্টার ও ব্যাটারি এবং সৌরবিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুৎচালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, ফ্যান, বাল্ব ও স্ট্রিট লাইটের প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত হন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ওয়ালটন সৌরশক্তি ব্যবহার করে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সারা দেশে সম্প্রসারিত হতে পারে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে কম খরচে মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। শুধু বাতি নয়, সৌরশক্তি ব্যবহার করে ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য চালানো যাবে। এ ক্ষেত্রে দেশের মানুষকে সৌরশক্তি ব্যবহারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম করবে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি গৃহস্থালির কাজে সৌরশক্তিনির্ভর পণ্য ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা। এটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য তৈরি নয়, বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরতে চায় ওয়ালটন।

যেভাবে কাজ করবে সোলার ইকোসিস্টেম

ওয়ালটন জানিয়েছে, সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ ও স্মার্ট টিভি পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলতে পারবে। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিয়ে পণ্যগুলো চালু থাকবে। ফলে সূর্যালোক ও সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।

এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তির মাধ্যমে দিনের বেলায় সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার ও বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্য পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যাটারিতে সোলার চার্জার ও এসি চার্জার থাকায় সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকেও যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমসমৃদ্ধ ব্যাটারি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-বাইককে মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা যাবে। এতে পরিবহনের পাশাপাশি সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ নিরাপদে সঞ্চালনের জন্য ফটোভোলটাইক বা সোলার কেবল এনেছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব কেবলে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর ও বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতিবেগুনি রশ্মি, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

ওয়ালটনের দাবি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, সঞ্চালন এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য পরিচালনা পর্যন্ত সমন্বিত এ প্রযুক্তিব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের হাই-টেক শিল্পের সক্ষমতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

বিএইচ