কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ
সিএসইকে সহযোগিতার আশ্বাস বিএসইসি চেয়ারম্যানের
আপডেট: ২০২৬-১০-০৮ ২১:৪৩:৪২
পুঁজিবাজারের বৈচিত্র্য আনতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। ‘ডাইভারসিফিকেশন ফর রেজিলিয়েন্স: দ্য রোল অব কমোডিটি ডেরিভেটিভস ইন এ মডার্ন পোর্টফোলিও’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান মো. মর্তুজা আলম।
সেমিনারে সিএসইর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ড. মাহমুদ হাসান, এম জুলফিকার হোসেইন, নাজনিন সুলতানা, ফরিদা ইয়াসমিন, মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিএসইর ট্রেক প্রতিনিধিরা এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশ নেন বি রিচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির সিইও ও ডিরেক্টর খন্দকার সাফফাত রেজা এবং সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মাদ মেহেদি হাসান। আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার।
মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ডাইভারসিফিকেশনের জন্য সিএসই কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর যে কাজ করছে, তা দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির প্রধান দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত করা, বাজারে ম্যানিপুলেশন হতে না দেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী রিটেইল বা ব্যক্তিশ্রেণির। বিপরীতে ভারতে এ হার ৩৩ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ১৭ শতাংশ।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন ও সেলফ-রেগুলেশনের বিষয় রয়েছে। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে তাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কমিশন বাজার মূলধন বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে। কারণ, বাজার মূলধন বাড়লে ট্রেডিং ভলিউমও বাড়বে। এ লক্ষ্যে আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে দেশি, বহুজাতিক ও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মাসুদ খান বলেন, আগে ডাইরেক্ট লিস্টিং বন্ধ ছিল। এখন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আইপিও রুলসের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পাশাপাশি হাইব্রিড পদ্ধতিতেও কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে যথাযথ প্রাইস ডিসকভারি হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল ‘ইনভেস্টর রেজিলিয়েন্স’। বিনিয়োগকারীদের রেজিলিয়েন্স বাড়ানোর জন্য ইকুইটি মার্কেট, ফিক্সড ইনকাম, কমোডিটি ডেরিভেটিভস ও কারেন্সি মার্কেটসহ বিভিন্ন খাত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব খাতের কোনোটিতেই বাংলাদেশ এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, কারেন্সি মার্কেটের সঙ্গে আইনি বিষয় জড়িত। কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট নিয়ে সিএসই কাজ করছে। অন্যদিকে ফিক্সড ইনকাম সেক্টরে করপোরেট বন্ডের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, ইকুইটি মার্কেটও কিছুটা স্থবির ছিল। দীর্ঘদিন নতুন আইপিও আসেনি। তবে নতুন কমিশন দ্রুততার সঙ্গে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করছে, তার ফলশ্রুতিতে পুঁজিবাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন খুব দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জিডিপিতে পুঁজিবাজারের উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ বাড়বে, যা তাদের রেজিলিয়েন্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট কাজ শুরু করলে পুঁজিবাজারে নতুন ফান্ড আসবে।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













