ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

চাকরির বাজারে দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-০৮ ১৯:৪৮:৩২


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের জন্য আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে ‘একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন: টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থীর চাকরির বাজারে সফল হওয়া নিশ্চিত নয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার মতো বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি ও এআই (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), এমপ্লয়াবিলিটি স্কিল (কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা) এবং এথিকস অ্যান্ড প্রফেশনালিজম (নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব)—এই তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও রূপান্তর (হিট) প্রকল্পের আওতায় কোর্সগুলো চালু করা হবে।

ইউজিসি সদস্য বলেন, এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতেও এসব কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন (শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা) এবং ইন্টারন্যাশনালাইজেশন অব এডুকেশন (শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ)-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশীয় চাকরির বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। এতে বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে।

তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানোই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইউজিসি সদস্য বলেন, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি না করে চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ—আপজেলা-ড্রিভেন ইয়ুথ অপরচুনিটি ফর গ্রোথ’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা তাঁদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জামানত ছাড়াই এ অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগেও সহায়তা দেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়; তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে, নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চয়তা সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

বিএইচ