জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-১০-১২ ১২:৩৯:২৩
গিয়াস উদ্দিন, ব্যাংকক থেকে
বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বিদ্যমান সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সংস্থাটি সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিল বা চলমান প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি খাতের সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায়ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আলোচনার অগ্রগতি ও পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় নেওয়া উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারের অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় ঘটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচিও আলোচনায়
এদিকে ব্যাংককে শুরু হওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নতুন ঋণ এবং সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের জন্য এবারের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইএমএফের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অগ্রগতি হলে দেশের বৈদেশিক অর্থায়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তা ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য পরিমাণ, শর্ত এবং চূড়ান্ত চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলোকে আলোচনাধীন হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
অর্থনীতির চাপ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব
বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের বাড়তি ব্যয়সহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা উন্নয়ন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাই শুধু নতুন ঋণ সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পথও খুঁজছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা কতটা কার্যকর আর্থিক সহায়তায় রূপ নেয় এবং আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কী অগ্রগতি হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













